পাকিস্তানের বন্দরে চীনের যুদ্ধজাহাজ, উদ্বিগ্ন ভারত

দিল্লি: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর গোয়াদরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)’র যুদ্ধ জাহাজের উপস্থিতি ভারতের জন্য ভবিষ্যতে উদ্বেগের কারণ হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল সুনিল লানবা।

শুক্রবার নয়া দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এডমিরাল লানবা বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি পিএলএ’র রণতরী গোয়াদরে নোঙ্গর করে তাহলে তা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই উদ্বেগ দূর করার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের।’

লানবা জানান যে গোয়াদরের বেশিরভাগ অংশের মালিকানা এখন চীনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। তিনি বলেন, ‘এটা একটি বাণিজ্যিক বন্দর এবং চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোর (সিপিইসি)’র অংশ। তবে পানসি বন্দর থেকে সাবমেরিন অপারেশনের কোনো খবর আমার জানা নেই।’

লানবা আরো জানান, যে কোনো মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর অন্তত ৮টি যুদ্ধজাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাবে। ২০০৮ সাল থেকে এসব জাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। এসব জাহাজের তিনটি জলদস্যুতা প্রতিরোধের কাজে নিয়োজিত থাকে এবং বছরে দু’বার প্রহরা জাহাজ নিয়ে সাবমেরিন এই অঞ্চলে টহল দেয়।

লানবা আরো বলেন যে, গত আগস্টে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো, তখন এই অঞ্চলে চীনের ১৪টি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছিলো।

ওই সময় চীন-ভুটান সীমান্তের দোকলাম উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে অচলাবস্থা চলছিল। ২৮ আগস্ট দুই পক্ষ সেনা সরিয়ে নিলে ৭৩ দিন ধরে চলা অচলাবস্থার নিরসন ঘটে।

ভারত মহাসাগরে চীনা সাবমেরিনের আনাগোনার ওপর ভারতীয় নৌবাহিনী নজর রাখছে বলেও লানবা জানান।

ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পিএলএ’র সাবমেরিনগুলো মোতায়েন শুরু হয় ২০১৩ সাল থেকে। বছরে দুই বার দুটি করে সাবমেরিন তিন মাস অবস্থান করে। একটি প্রচলিত সাবমেরিনকে অনুসরণ করে আসে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন (এসএসএন)। এই প্যাটানের ব্যত্যয় ঘটেনি। আমরা তাদের মোতায়েনের ওপর নজর রাখছি। ২৪ বা ৪৮ ঘন্টায় একবার করে নজরদারি বিমান পাঠিয়ে সামমেরিনগুলো মনিটরিং করা হয়।

তবে, ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান বলেন যে চীনা সাবমেরিনগুলো মূলত জলদস্যুতা প্রতিরোধের কাজ করছে এবং অনেক দিন ধরেই কাজটি করা হচ্ছে।

চীন-ভারত দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে সিকিম

ভারতের সিকিম রাজ্যের সঙ্গে নথু লা গিরিপথ দিয়ে চীন বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়ায় রাজ্যটির সরকারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভূবেষ্টিত ক্ষুদ্র হিমালয়ান রাজ্যটি ১৯৭৫ সালে ‘বিতর্কিতভাবে’ ভারতের সঙ্গে যোগ দেয়।

রুশ অনলাইন সংবাদমাধ্যম স্পুটনিককে বিভিন্ন সূত্র জানায়, বাণিজ্য স্থগিত রাখার বিষয়টি নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে কথা বলতে দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার তাগাদা দিচ্ছে সিকিম সরকার। সমস্যার দ্রুত সুরাহা চায় সিকিম। চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের সবচেয়ে কম সময়ের এবং সহজ বাণিজ্যপথ হলো এই নথু লা গিরিপথ। কিন্তু কয়েক মাস আগে ভুটানের দোকলাম উপত্যকায় ভারতের সঙ্গে সামরিক অচলাবস্থা সৃষ্টির পর থেকে এই পথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় চীন। গত আগস্টে অচলাবস্থা নিরসনের পর ধারণা করা হয়েছিলো যে এই পথে বাণিজ্য কার্যক্রমও দ্রুত শুরু হবে। কিন্তু চীন আর সে ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, নথু লা পাস দিয়ে আবারো বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভারতীয় বণিকরা সীমান্ত পর্যন্ত এগিয়ে গেলেও চীনাদের কেউ আসছে না।

প্রতিবছর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নথু লা গিরিপথ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে বাণিজ্যিক পণ্য যাওয়া আসা করে। তবে, বরফ পরার কারণে শীত মওসুমে বাণিজ্য কম হয়। এ বছর এই পথে মাত্র ১১ দিন বণিজ্য চালু ছিলো। এর পরপরই চীন-ভারত অচলাবস্থা তৈরি হলে পথটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

আন্তঃবাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিকিম ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিম এর আগে বলেছিলেন যে চীন ও ভারতের মধ্যে চাপা পড়ে চিড়ে চ্যাপ্টা হওয়ার জন্য ভুটান ১৯৭৫ সালে ভারতের সঙ্গে যোগ দেয়নি।

Comments

comments