পাহাড়ে আগুন জ্বালানোর হুমকি সন্তু লারমার!

পার্বত্য চুক্তি’র যথাযথ বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে (পার্বত্য চট্টগ্রামে) আগুন জ্বালানোর হুমকি দিয়েছে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

২ ডিসেম্বর শনিবার রাজধানীর একটি সেমিনার হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র দুই দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে সভায় এ হুমকি দেয় সে।

সভায় সে বলেছে, ‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে।’

চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা উল্লেখ করে সে বলেছে, ‘১৯৯৭ সালে আজকের প্রধানমন্ত্রীই চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সেদিন যেসব কথা বলেছেন, আর আজকে তিনি যা বলছেন, তাতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তার কথায় পাহাড়িদের বঞ্চনা, শোষণ ও নিপীড়নের কথাই খুঁজে পাই।’

চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে উল্লেখ করে সে বলেছে, ‘এসব কিছুর পরে মনে হয়, আমরা যেন সেই পাকিস্তানি শাসনমালের মতোই একটি ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় আছি। এ উপনিবেশ তো আমরা চাইনি। বিশেষ শাসিত অঞ্চলের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তা করা হয়নি। গোটা চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির সঙ্গে ‘প্রতারণা করে চলেছে’ অভিযোগ করে সে বলেছে, ‘আজকে আঞ্চলিক পরিষদকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছে সরকার ও মন্ত্রণালয়।’

শান্তি চুক্তি অনুসারে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি, সেনা শাসন প্রত্যাহার, জুম্মদের শিক্ষা সংস্কৃতি রক্ষায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি জুম্ম জাতির অধিকার দমনে অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে, তবে আজকের নিরস্ত্র জুম্মরাও হাতে অস্ত্র নিয়ে তাদের উত্তর দেবে।’

পাহাড় থেকে বাঙালিদের সমতলে ফিরিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে সন্তু লারমা বলেছে, ১৯৯৭ সালে যে চুক্তি হয়েছিল সে চুক্তিতে নাকি লিখিত ও অলিখিত দুটো রূপ ছিল। অলিখিত চুক্তিতে ছিল, পাহাড়ে জিয়াউর রহমান সরকারের সময় যে ৫ লাখ বহিরাগত বাঙালিকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল তাদের সমতলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু কবে, কোথায়, কে তার সাথে এমন আজগুবি অলিখিত চুক্তি করেছিল তা সে উল্লেখ করেনি।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সাক্ষরিত হয়। বিশ্ব ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে চলতে থাকা দুই দশকের সশস্ত্র আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

সভায় আলোচনা অংশ নেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য।

Comments

comments