নভেম্বরে ১৮৫ হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ৩২টি

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে সারাদেশে মোট হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ১৮৫টি। নভেম্বরে গড়ে প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটে ছয়জনের বেশি। এছাড়া পরিবহন দুঘর্টনায় মারা গেছেন আরোও ২১৫ জন। ৩২টি ধর্ষণের তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অবশ্যই আইনশ্রঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি বলে উল্লেখ করেছে। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন অনুসন্ধানের জরিপে দেখা যায়, নভেম্বরে যৌতুকের কারণে পাঁচজন হত্যার শিকার হন, পারিবারিক সহিংসতায় ৩৪ জন, সামাজিক সহিংসতায় ৪৩ জন, রাজনৈতিক কারণে চারজন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নয়জন, বিএসএফের হাতে পাঁচজন, চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু আট জনের, অপহরণ করে হত্যা চারজন, গুপ্তহত্যা সাতজন ও রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের। আর ধর্ষণের পর দুজন ও এসিড নিক্ষেপে একজনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন প্রতিবেদনে জানায় আত্মহত্যা করেছেন ২৯ জন। নভেম্বর মাসে ৩২টি ধর্ষণের কথা জানা গেছে। আর যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে নয়টি। এই মাসে ১০ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

দেশজুড়ে ধর্ষণের ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগ
সম্প্রতি রাজধানীসহ সারাদেশে একের পর এক অস্বাভাবিক ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে কাছে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ, রাজধানীতে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় শরীয়তপুরে দশম শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা, টাঙ্গাইলে এক তরুণীকে সাত মাস আটকে রেখে ধর্ষণ, আপন ফুফার হাতে বাক-প্রতিবন্ধী তরুণীসহ একেরপর এক ধর্ষণের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এবং যথাসময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় দুর্বৃত্তরা নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। সামাজিক অস্থিরতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরণের ঘৃণ্য ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত ও সঠিকভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আহবান জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

Comments

comments