ঢাকাতেও পোপের মুখে ‘রোহিঙ্গা’ এল না

বাংলাদেশ সফরে এসেও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।সফরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে একান্ত বৈঠক শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একবারের জন্যও রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণ করেননি। তবে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা বিপুলসংখ্যক মুসলিম শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান পোপ।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোপ বাংলাদেশে আসার আগে মিয়ানমার সফর করেন। সেখানেও তিনি দেশটির সরকার এবং সেনাবাহিনীর আপত্তির কারণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি।
বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা শব্দের স্থলে পোপ ‘রাখাইন রাজ্য থেকে আসা শরণার্থী’ বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি এসব শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা এবং সংকট নিরসনে সবাইকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে অভিযান চালানোর পর থেকে নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ অভিযোগ করেছে, রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘জাতিগত নিধন’ ও গণহত্যা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মিয়ানমারের কড়া সমালোচনা করেছে।
তাদের সুরে সুর মিলিয়ে মিয়ানমার সফরের আগে পোপ বলেছিলেন, ‘আমাদের রোহিঙ্গা ভাই-বোনের সংকটে আমি ব্যথিত।’
অথচ গত মঙ্গলবার মিয়ানমার এসে সেই পোপের মুখে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটা একবারও উচ্চারিত হলো না।

সফরে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের পাশাপাশি পোপের দেখা হয়েছে দেশটির ডি-ফ্যাক্টর নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে। তার সঙ্গে বৈঠকের পর পোপ ফ্রান্সিস শুধু বলেন, ‘সব জাতিগোষ্ঠী ও পরিচয়ের প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো উচিত।’
সু চির প্রতি সমর্থন দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক দশকের সেনা শাসনের পর মিয়ানমারে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে যেভাবে সু চি এক ছাতার তলায় আনতে পেরেছেন, তা প্রশংসনীয়।’

পোপের এই প্রতিক্রিয়ায় হতাশ অনেকেই। রাখাইন প্রদেশের বাইরে সিত্তের শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা কও নেইং বলেন, ‘ভেবেছিলাম পোপ অন্তত আমাদের দুর্দশার কথা বলবেন। কিন্তু, উনি রোহিঙ্গা শব্দটা উচ্চারণই করলেন না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া শাখার উপ-প্রধান ফিল রবার্টসনের আশা, বুধবারের বিশেষ প্রার্থনায় (মাস) পোপ হয়তো রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ করবেন। কিন্তু, বাস্তবে সেটি দেখা যায়নি।

মিয়ানমার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পোপ ফ্রান্সিস। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান।
সেখানে ফুল দিয়ে পোপ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর ও একটি নাগেশ্বর চাপা রোপণ করেন।

সাভার থেকে ঢাকার ধানমন্ডিতে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন পোপ। এরপরই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

Comments

comments