শাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নানা অনিয়ম, অসংগতি : ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েও ভর্তিযোগ্য!

মো. আসিফুজ্জামান ইমনের বাড়ি নড়াইলে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসেননি। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনিও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযোগ্য হয়েছেন।

ঘটনাটি গত মঙ্গলবার কয়েকজন সাংবাদিক জানতে পেরে খোঁজ নেওয়া শুরু করলে ফলাফলের পিডিএফ কপির ডাউনলোড অপশন ওয়েবসাইট থেকে মুছে দেওয়া হয়। তবে একাডেমিক ভবন ‘ডি’-তে এখনো ভর্তিযোগ্য (চান্স) হওয়ার তালিকায় আসিফুজ্জামানের রোল নম্বর ঝুলছে। এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আবদুল গনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে কী হয়েছে, তা আমরা বের করার চেষ্টা করছি।’

শুধু তা-ই নয়, ইংরেজিতে কঠিন প্রশ্ন করায় ফল বিপর্যয়, যাদের যে বিষয়ের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার কথা তা না নেওয়া, প্রযুক্তির মাধ্যমে জালিয়াতির চেষ্টাসহ শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আরও কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ১৮ নভেম্বর এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থাপত্যের প্রশ্নে রসায়ন ও সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন

স্থাপত্য বিভাগে ভর্তি হতে হলে মূল পরীক্ষার পরে আরও এক ঘণ্টার ড্রয়িং ও স্থাপত্যবিষয়ক ৩০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। এ বছর এ প্রশ্নে রসায়নবিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞানের তিনটি প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, স্থাপত্য বিভাগে ভর্তির জন্য ৩০টি আসনের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ১ হাজার ৮৯৫ জন।

বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে মাত্র ৯৯ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বিষয়বহির্ভূত প্রশ্ন করায় তাঁরা ভালো করতে

পারেননি বলে জানিয়েছেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. মহিবুল আলম বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও সে রকম প্রশ্ন করেছেন।’

এ ছাড়া ভুল করে মানবিকের এক শিক্ষার্থীকে ভুল করে বাণিজ্যের প্রশ্নে পরীক্ষা নিতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।

জালিয়াতির চেষ্টা, অতঃপর

ভর্তি পরীক্ষা চলার সময় কানের মধ্যে ‘ডিভাইস’ রেখে জালিয়াতি করে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন সানোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী।

হঠাৎ করে তাঁর ডিভাইসে ত্রুটি দেখা দিলে শব্দ হয়। তখন বিষয়টি হল পরিদর্শকের নজরে আসে। সানোয়ারকে আটক করা হয়। আর মেহেদী হাসান নামে আরেক শিক্ষার্থী একই প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন রাজা জিসি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। একসময় তাঁর কানে রাখা একটি ডিভাইস পড়ে গেলে হল পরিদর্শকের নজরে আসে। তাঁকেও আটক করা হয়। আটক ওই দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসার পর উপাচার্যের কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষমাণ কক্ষে রাখা হয়। তখন তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় কানের মধ্যে রাখা ডিভাইসে তাঁরা প্রশ্ন ও উত্তর দুটোই পেয়েছেন। আটক ব্যক্তিরা এখন কারাাগারের আছেন।

ইংরেজির প্রশ্ন ‘অনুপযোগী’

ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হতে হলে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। এ বছর ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য যোগ্য মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে মাত্র ১০ জন। অথচ মানবিক বিভাগ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফল প্রকাশের আগে বিষয়টি নিয়ে ভর্তি কমিটির সভা হয়। এতে আসনগুলো পূর্ণ করতে ৪০ শতাংশ নম্বরের বাধ্যবাধকতা কমাতে ইংরেজির নম্বর ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা হয়। ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আতী উল্লাহ বলেন, ‘এ বছরের প্রশ্নটি ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুপযোগী। স্নাতকোত্তর ও স্নাতক শেষ বর্ষে যেসব বিষয় পড়াই, সে বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে।’

একাধিক শিক্ষক বলেছেন, কঠিন প্রশ্নের কারণেই এই বিপর্যয় হয়েছে। এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. মহিবুল আলম বলেন, তাঁরা প্রশ্ন অনুপযোগী মনে করলে আলাদা পরীক্ষা নিতে পারেন।

Comments

comments