একজন মুসলিম পিতার মহানুভবতা (ভিডিও)

একজন মুসলিম পিতা ক্ষমা করে দিলেন এমন একজন খুনীকে, যে তার ২২ বছর বয়সী যুবক ছেলেকে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে ওই মুসলিম পিতা বললেন- ‘ক্ষমা ইসলামী বদান্যতার এক মহান উপহার।’

২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল সালাহউদ্দিন জিতমৌদ নামক এক মুসলিম যুবক পিজ্জা সরবরাহ করার সময় হত্যাকান্ডের শিকার হন। ২ বছর পর ট্রে আলেক্সান্ডার রেলফোর্ড আদালতে হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়।

এসময় নিহত সালাহউদ্দীনের পিতা বলেন- ‘আমি সালাহউদ্দীন ও তার মায়ের পক্ষ থেকে তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তোমার বর্তমান এই দুরাবস্থার জন্য আমার দুঃখ অনুভূত হচ্ছে। আমি মনে করি সালাহউদ্দীন যদি জীবিত অবস্থায় এখানে থাকতো, তবে সেও তোমাকে ক্ষমা করে দিত। সে এমনই ছিল।’

বাকী খুনীরা তখনও চিহ্নিত হয়নি। নিহত সালাহউদ্দীনের পিতা খুনী ট্রে কে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেন। তিনি বলেন- ‘তুমি যদি খুনীদের কাউকে চিনে থাকো, তবে অনুগ্রহপূর্বক তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে জানাও।’

এসময় সালাহউদ্দীনের পিতার মহানুভবতায় বিচারকও কেঁদে ফেলেছিল। আবেগাপ্লুত বিচারক তখন বলেন- ‘আমি মনে করি এটি একটি উত্তম মূহুর্ত একটু বিরতি দেয়ার। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।’

এ সময় ট্রে অনুশোচনা বোধ করে। সে বলে- ‘আমার আর কিছুই করার নেই। কিন্তু আমি আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাকে ক্ষমা করার জন্য।’

সালাহউদ্দীনের পিতা এসময় তার অশ্রু মোছার জন্য টিস্যুপেপার এগিয়ে দেন। এবং তাকে জড়িয়ে ধরেন। এসময় জিতমৌদ ও রেলফোর্ডের পরিবার একত্রিত হয়ে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের লেক্সিংটন পুলিশ প্রধান বলে ‘আমি মনে করি এ ঘটনা থেকে প্রত্যেকটি বাবা মার শিক্ষা নেয়া উচিত। আমরা আসলেই এমন দুটি ভালো পরিবার দেখলাম, যারা একটি দুঃখজনক ঘটনার পর একত্রিত হয়েছে অথচ তারা কেউই পূর্বপরিচিত নয়!’

পরবর্তীতে ট্রে কে ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এসময় ট্রে কে সালাহউদ্দীনের পিতা বলেন – ‘যখন তোমার এ কারাবাস শেষ হবে, তখন ভালো ও কল্যাণমূলক কাজ করবে। কারণ তোমার এ ভালো কাজ তোমাকে সত্যের পথ দেখাবে। তোমাকে স্রষ্টার নিকটবর্তী করবে। এবং জান্নাতে সালাহউদ্দীনের সাথে তোমাকে সাক্ষাত করাবে।

Comments

comments