গাছ পুড়িয়ে কয়লা!

টাঙ্গাইলে গাছ পুড়িয়ে বানানো হচ্ছে কয়লা!

টাঙ্গাইলের সখিপুরে বনাঞ্চলের ভেতরে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কয়লা উৎপাদন কেন্দ্র। কিছু অসাধু বন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বনের গাছ কেটে তা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে কয়লা। এতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। এদিকে আইনগত জটিলতার কারণে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা। তবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

টাঙ্গাইলের সখিপুরের বেশিরভাগ এলাকাই বন বিভাগের আওতাভুক্ত। তবে এই বনাঞ্চল এখন অনেকটাই স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে। অসাধু কিছু বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নির্বিচারে গাছ কেটে উজাড় করছে তারা।

এতে একদিকে যেমন হুমকির মুখে পড়ছে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি অন্যদিকে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। এছাড়া কারখানার সৃষ্ট ধোঁয়ায় শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছে আশপাশের মানুষের। এ অবস্থায় অবিলম্বে কয়লা উৎপাদন কারখানা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও পরিবেশবিদরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এর কারণে বাচ্চারা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। অসুখ-বিসুখ আমাদের পিছন ছাড়ছে না। এটা এখান থেকে সরিয়ে নেয়া দরকার।

বেলা’র ঊর্ধ্বতন পরিবেশ গবেষক সোমনাথ লাহেড়ী বলেন, কার্বনের কারণে পরিবেশগত স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। পরিবেশের অণুজীবগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে কয়টা উৎপাদন করা বেআইনি।

এদিকে আইনি জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়ে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুসাইন মোহাম্মদ নিশাদ বলেন, বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জটিলতা থাকায় আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তবে এ বিষয়ে আমরা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

তবে অবিলম্বে কয়লা নির্মাণ কারখানা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, এখানে অবৈধভাবে কিছু কয়লা উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এগুলো বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বন বিভাগের তথ্য মতে, টাঙ্গাইলের সখিপুরে মোট ৪৭ হাজার ২২০ একর বনভূমি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ২০০ একর জায়গা দখল করে বাসাবাড়ি আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বনের গাছপালা পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদনের জন্য ১২টি কারখানা গড়ে তুলেছে।

Comments

comments