আদালতে স্বীকারোক্তি টিটু রায়ের!

ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার টিটু রায় গতকাল মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা এ জবানবন্দিতে তিনি কী বলেছেন তা জানা যায়নি।
কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই বাবুল ইসলাম বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় টিটু রায়কে দুই দফায় আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ড শেষ হওয়ায় গতকাল আদালতে হাজির করা হলে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। টিটু রায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, টিটু রায় রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ধর্ম অবমাননায় অভিযুক্ত টিটু রায়কে গতকাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয় কঠোর গোপনীয়তায়। পরে বিকেলে তাঁকে আদালত থেকে বের করে একটি প্রিজন ভ্যানে তুলে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াতেই গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা, এমনকি তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।

টিটু রায়ের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের নিযুক্ত ১০ আইনজীবী গতকাল সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁদের দৃষ্টি এড়িয়েই পুলিশ আদালতে টিটুকে হাজির করেন। কারাগারে পাঠানোর সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা জানান, জামিনের আবেদনসহ মামলা পরিচালনা করার জন্য তাঁরা সকাল থেকে আদালতে ছিলেন। ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে অপেক্ষা করে লাভ হয়নি, সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

আইনজীবী নরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘টিটুকে কখন আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে তাও জানি না। পরে দেখলাম পুলিশ আদালত চত্বর থেকে তাঁকে বের করে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে গেল। আমরা টিটু রায়ের পক্ষে আদালতে কথা বলার সুযোগ পেলাম না। ’

রংপুর আইনজীবী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, টিটু রায়ের পরিবার অত্যন্ত গরিব। তারা টিটুর পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেনি। আদালতের মাধ্যমে দুই দফা রিমান্ডে নিলেও টিটু রায়ের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাই রংপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদ, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ব্লাস্ট এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে টিটু রায়কে আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ১০ জন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলা পরিচালনা করার জন্য আজ আইনজীবীরা জেলহাজতে গিয়ে টিটু রায়ের স্বাক্ষর নেবেন।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গত ১০ নভেম্বর রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে একদল দুর্বৃত্ত। এতে ১১ পরিবারের ১৮টি ঘর ভস্মীভূত হয়। অভিযুক্ত টিটু রায় অবমাননার ঘটনায় জড়িত নন বলেই দাবি করে আসছে স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনরা। সে ক্ষেত্রে গতকাল আকস্মিক স্বীকারোক্তি প্রদানের বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Comments

comments