ছোট পদের নিয়োগে বড় অঙ্কের লেনদেন!

পদের নাম ‘লস্কর’। জাহাজের রশি বাঁধা ও পাহারা দেওয়াই মূল কাজ। সর্বসাকল্যে বেতন প্রায় আট হাজার টাকা। অভিযোগ আছে, এই পদে নিয়োগ পেতে অনেক প্রার্থী ‘বিনিয়োগ’ করেছেন সর্বনিম্ন তিন থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা। যাঁরা এর কমে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের নিয়োগ হয়নি।

জানতে চাইলে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ গত সোমবার নিজ কার্যালয়ে বলেন, ‘এই নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ আমিও শুনেছি। অভিযোগ শোনার পর আমি জানিয়ে দিয়েছি, সরাসরি আমার কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানানোর জন্য। কিন্তু কেউ অভিযোগ না দিলে ব্যবস্থা নিই কী করে। তবে এখনো সময় আছে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুলিশ প্রতিবেদনের (ভেরিফিকেশন) জন্য পাঠানো হয়েছে। যাঁরা টাকা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাঁদের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষা না থাকায় এই নিয়োগ নিয়ে সুপারিশ ছিল বেশি। এ কারণে পরবর্তী সময়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়া কোনো নিয়োগ হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, লস্কর পদে আবেদন করেছেন ২০ হাজার ১৬৩ জন। তবে অংশ নিয়েছেন পাঁচ হাজার ৭১২ জন। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৬৫ জনকে। একইভাবে খালাসি পদে সাত হাজার ৩০০ জন প্রার্থীর মধ্যে নিয়োগ হয়েছে ৩৭২ জন।

নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রার্থী ও টাকা লেনদেনকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করে তাঁরা বলেন, সুপারিশ নিয়েও লস্কর পদে ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ এবং খালাসি পদে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন তাঁরা। টাকা দেওয়া প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকে নিয়োগ পাননি। তাঁরা এখন টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। টাকা ছাড়া নিয়োগ হয়েছে শুধু গুটি কয়েক বন্দরের সাবেক ও বর্তমান কর্মচারীদের সন্তানদের।

টাকা দিয়েও নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থী আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন সাংসদের সুপারিশসহ লস্কর পদে নিয়োগ পেতে এক কর্মকর্তাকে আড়াই লাখ টাকা দিয়েছি। নিয়োগের পর আরও দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিয়োগও পাইনি, টাকাও ফেরত পাইনি। অথচ নিয়োগ শাখার এক কর্মচারীকে তিন লাখ টাকা দিয়ে আমার পরিচিত একজন চাকরি নিশ্চিত করেছেন।’ নিয়োগ কমিটির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে মন্ত্রী-সাংসদ, স্থানীয় নেতা, সিবিএ নেতা ও সাংবাদিকদের সুপারিশে চাকরি হয়েছে অনেকের। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁরা অস্বীকার করেন।
লস্কর পদে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক সিনিয়র পারসোন্যাল কর্মকর্তা ওমর ফারুক এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। খালাসি পদে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক আবু ইসমাইল প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। সবাইকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে অনুত্তীর্ণ প্রার্থীরাই এসব অভিযোগ করছেন।

Comments

comments