পাকিস্তানের ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে হেরে যাচ্ছে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র

ইসরাইলের সাথে করা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাতিল করার ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর সামনে ভয়াবহ রকমের নাজুক অবস্থায় পড়তে পারে ভারতীয় বাহিনী। ভারতীয় সেনা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাসূত্রের মূল কথা হলো- পাকিস্তানের পদাতিক বাহিনীর কাছে ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র আছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ৩-৪ কিলোমিটার দূর থেকে ভারতীয় ট্যাঙ্ক ও বাঙ্কারে আঘাত হানতে পারে। আর ভারতীয় বাহিনীর হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা মাত্র দুই কিলোমিটার।

ভারত বেশ উৎসাহের সাথে ইসরাইলের কাছ থেকে ১,৬০০টি ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী স্পাইক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা চালিয়েছিল। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দরকার বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর ‘দেশে অস্ত্র তৈরি’ পরিকল্পনার আলোকে ওই চুক্তিটি বাতিল করে দিয়েছে।

স্পাইক হলো মানুষবাহী ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ ক্ষেপণাস্ত্র। এটা ট্যাঙ্কের মতো টার্গেটে আঘাত হানতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে টার্গেট শনাক্ত ও ফায়ার করতে পারায় অস্ত্র হিসেবে বেশ দারুণ। পদাতিক বাহিনী অগ্রসর হওয়ার সময় এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ঢাল হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। ইসরাইলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি করে এই ক্ষেপণাস্ত্র।

পাকিস্তানি পদাতিক বাহিনী চীনা এইচজে-৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে তৈরি করে ব্যবহার করে। এর পাল্লা ভারতীয় সেনাবাহিনী বর্তমানে যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তার প্রায় দ্বিগুণ। পাকিস্তান পদাতিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টিওডব্লিউ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করে। এই অস্ত্র আরো দূর থেকে ট্যাঙ্ক ও বাঙ্কার টার্গেট করা যায়।

চীনা এইচজে-৮-এর পাকিস্তানি সংস্করণের নাম ‘বাক্তার-শিকান।’ ভারতের টি-৯০-এর আর্মার ভেদ করার উপযোগী করেই পাকিস্তানের এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরের টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম। পাকিস্তানের টিওডব্লিউ একসময় মার্কিন বাহিনীর অন্যতম হাতিয়ার ছিল। এটা চার কিলেমিটার দূরে আঘাত হানতে পারে।

অন্যদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদাতিক সেনারা ফরাসি-জার্মান নির্মিত মিলান ২-টি কিংবা রাশিয়ার ৯এম১১৩ কোনকুর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এর পাল্লা মাত্র ২ কিলোমিটার।

গত বছর স্পাইক কেনার জন্য ইসরাইলের রাফায়েলের সাথে চুক্তি করে ভারত। বলা হয়েছিল, ভারতের কল্যাণী গ্রুপের সাথে যৌথভাবে ভারতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে। কিন্তু এখন মোদী দেশীয় অস্ত্রের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়ায় সেটা বাতিল করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন চর বছরের মধ্যে বিশ্বমানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, এটি পদাতিক বাহিনীর ফরমেশনে বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করবে। যেকোনো ধরনের নির্মাণ, পরীক্ষা ও চালুর কাজে চার বছরের বেশি দেরি হওয়াটা সেনাবাহিনীর কাছে অগ্রহণযোগ্য।

ইসরাইলের একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাতকারে রাফায়েলের মুখপাত্র ইশাই ডেভিড বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে রাফায়েলকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে ভারতের কল্যাণী গ্রুপের কাছ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Comments

comments