বাবা-মায়ের অপেক্ষায় পুতুলের সারাবেলা

শুধু নামেই নয়, দেখতেও পুতুলের মতো। জীবন বাঁচাতে পরদেশে মানুষ শুধু আশ্রয়ই দেয়নি, দিয়েছে নামও। বাবা-মা আদর করে মার্জিয়া নাম রাখলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে নাম হয়েছে পুতুল। সবাই এখন পুতুল বলেই ডাকে। ভোরে আলো ফুটতেই পুতুলের দেখা মিলে কুতুপালং ক্যাম্পের ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাবা-মায়ের অপেক্ষায় বসে থাকে তিন বছরের পুতুল।

মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে রাখাইন রাজ্য ছেড়ে অন্যদের মতোই বাবা-মায়ের কোলে চড়ে ঘর ছাড়ে পুতুল। নাফ নদ পার হওয়ার সময় ডুবে যায় নৌকা। তারপর আর বাবা-মায়ের খোঁজ পায়নি পুতুল। প্রতিবেশী সাজেদা বেগমের কোলে চড়ে এসেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসে থাকা পুতুল অপরিচিত কাউকে দেখলেই জিজ্ঞেস করে বাবা-মায়ের কথা। অনেক সময় কান্নাও করে। বাবা-মা হয়তো চলে গেছেন না ফেরার দেশে। কিন্তু কোমলমতি এই শিশুটি বুঝতে পারে না কঠিন এই সত্য।

পুতুলের ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকা দৃষ্টি নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। ফিরতে চায় বাবা-মায়ের বুকে। তার অসহায় চোখ দুটি পৃথিবীর সব কষ্টকে হার মানায়।

সাজেদা বলেন, মুখটা দেখলে বড় মায়া লাগে। তাই ফেলে আসতে পারিনি। এক কোলে আমার মেয়ে, অন্য কোলে পুতুলকে নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ পার হয়ে আসি টেকনাফে। প্রায় তিন মাস হয়ে গেলেও এখানও পুতুলের বাবা-মায়ের খোঁজ মেলেনি।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গার মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। সহিংসতায় এসব শিশুর কারো মা নিহত হয়েছেন, কারো বা বাবা। আবার একেবারেই একা প্রতিবেশী বড়দের কোলে চড়ে বা হাত ধরেও এসেছে হাজারো শিশু।

এমন হাজারো পুতুল রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। যেসব শিশুর মা-বাবা বেঁচে এ দেশে পালিয়ে এসেছেন, তারাও জানেন না- দিনে অন্তত একবেলা খাবার সন্তানের মুখে তুলে দিতে পারবেন কিনা। আর একেবারে এতিম হয়ে আসা শিশুদের জীবনটাই পড়ে গেছে চরম ঝুঁকির মুখে

Comments

comments