ঢাবি ও বুয়েট শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ভিডিও ইন্টারনেটে

তদন্তে কোন প্রাণ নেই। একেবারে দায়সারা গোছের। কারো যেন মাথা ব্যথা নেই। কেবল সময় ক্ষেপন হচ্ছে। তদন্তে পড়েছে ভাটা। এই অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

তারা বলছেন, একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু এ ব্যাপারটির বিষয়ে কারো যেন দায়
নেই। তদন্ত চলছে ঢিমেতালে। এধরণের তদন্ত কমিটি বহুবার হয়েছে। কিন্তু কোনটারই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়না। আলোর মুখ দেখে না তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন।

উল্লেখ্য, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর বুয়েট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মাঝে চলে ঠাণ্ডা লড়াই। কিন্তু ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বুয়েট ও ঢাবির কেউই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষক আব্দুর রহিমকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

কমিটির সদস্যরা গত ২৮, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর এবং ৬ ও ৭ নভেম্বর বৈঠক করে প্রত্যক্ষদর্শী
ও ওই হলের কর্মচারী এবং সাধারণ ছাত্রদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

তদন্ত কমিটির প্রধান আব্দুর রহিম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “আমাদের আরও সময় লাগবে। বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থীরা মারামারির সিসিটিভি ফুটেজের একাংশ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ায় জটিলতা আরও বেড়েছে।”

বুয়েট কর্তৃপক্ষ ঘটনার সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনার উৎপত্তিস্থল যেহেতু বুয়েট ক্যাম্পাস, সেহেতু মূল দায়িত্ব বুয়েট কর্তৃপক্ষের। ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হল সেটা তারা ভালো বলতে পারবেন। আমরা আমাদের স্টুডেন্টদের কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছি।”

ঘটনার পর ২১ দিনেও কেন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেলোয়ার হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “আশা করি শিগগিরই রিপোর্ট দেওয়া হবে।”

তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “আমি এ ব্যাপারে জানি না। এটা রেজিস্ট্রারের অধীনে। উনার সাথে যোগাযোগ করুন।”

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা। ওই দিন বুয়েটের প্রথম বর্ষের একদল শিক্ষার্থী তাদের ক্যাম্পাসে অবস্থানরত গাঁজাসেবনকারী ও ‘বহিরাগত প্রেমিক-প্রেমিকার’ ওপর চড়াও হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই সময় বুয়েট ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় বসে থাকা এক জুটির একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

তিনি পরিচয়পত্র দেখানোর পর দুজনকে চলে যেতে বলা হয়। তারা চলে যাওয়ার মুহূর্তে মেয়েটিকে নিয়ে কটূক্তি করেন বুয়েটের কয়েকজন ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র তার প্রতিবাদ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে ঢাবি ছাত্র সেখান থেকে চলে আসেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাতেই পলাশী মোড়ে বুয়েটের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন ঢাবির সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের একদল ছাত্র।

এবার এই মারপিটের ঘটনার জের ধরে বুয়েটের একদল ছাত্র সেদিন দুপুরে পলাশী মোড় থেকে জহরুল হক হলের এক ছাত্রকে ধরে বুয়েটের তিতুমীর হলে নিয়ে যান বলে তার কয়েকজন সহপাঠী জানান। এরপর বুয়েট এবং ঢাবির শতাধিক ছাত্র রাস্তায় অবস্থান নেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ চলতে থাকে তাদের মধ্যে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের এক ছাত্র তার বান্ধবী বুয়েটের মেকানিক্যালের এক ছাত্রীকে হলে পৌঁছে দিতে যান। অটোরিকশায় করে দুজন বুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছলে শহীদ মিনারের পাশের রাস্তায় আটকে তাদের পরিচয় জানতে চান উত্তপ্ত একদল শিক্ষার্থী।

ঢাবির ছাত্র পরিচয় পেয়ে তাকে মারধর করেন বুয়েটের ওই শিক্ষার্থীরা। ছাত্রীটি বুয়েটের হওয়ায় তাকে হলে চলে যেতে বলা হয়। এ পরিস্থিতিতে মেয়েটি বন্ধুকে ফেলে হলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপরও হামলা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন। পরে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাকিব হাসান সুইম এবং অন্যান্য গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রীটিকে হলে পৌঁছে দেওয়া হয়। অনেকেই বলেছেন এভাবে তদন্ত চলাকালে ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে আপ করা ঠিক হয়নি। এটাকে অন্যায় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

Comments

comments