স্কুলে শাস্তির পক্ষে ৬৯ শতাংশ মা-বাবা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুরা বেত, ডাস্টার, স্কেল দিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ব্লাস্ট পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘নিয়মানুবর্তিতার জন্য’ এ নির্যাতনে ৬৯ শতাংশ পিতা-মাতা ও অভিভাবকের সায় আছে।

আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্লাস্ট দেশের ২৫টি জেলায় কাজ করে। ২০১৬ সালে তাদের কর্ম এলাকায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্লাস্ট ও সেভ দ্য চিলড্রেন ‘শিশুর অধিকার সুরক্ষায় শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিরসন’ বিষয়ে গণশুনানি হয়। এ গণশুনানিতেই গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়।

অভিভাবকদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন, শাস্তি শিশুকে ভালো পথে নিয়ে যায়। ২৭ শতাংশ মনে করেন, শাস্তি না হলে শিশুরা বখে যায় এবং ২৫ শতাংশের মতে, শাস্তি দিলে শিশুরা শিক্ষকদের কথা শোনে।

শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সামাজিক, মানসিক ও আইনগত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়। এ গণশুনানিতে বিচারক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি, আইনজীবী, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, মনোবিদ নির্যাতনের শিকার পরিবার এ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এখানে অংশ নেন।

আলোচনায় জুরিবোর্ডের সদস্য গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেন, তাঁরা নিজেরাই কতটুকু সচেতন, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। আর শারীরিক নির্যাতন বন্ধ হলেও মৌখিকভাবে নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, গায়ে হাত না পড়লে শিশুরা মানুষ হবে না, এ ধারণা থেকে অভিভাবকদের বেরিয়ে আসা উচিত।

দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘আইন আছে, কিন্তু এর প্রয়োগ নেই। শিশুদের শাস্তি নয়, ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে হবে। ভুল শুধরে দেওয়ার মানসিকতা আমাদের মধ্যে তৈরি করতে হবে।’

আলোচনায় একজন অভিভাবক বলেন, শাস্তি শব্দটি শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাটাই ভালো। কারণ, শিশুরা অপরাধ করে না, ভুল করে।

সহজপাঠ উচ্চবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোমেনা বেগম বলেন, শিশুদের মানসিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে মিশে যেতে হবে।

গণশুনানির আলোচনায় বক্তব্য দেন ব্লাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সদস্য জেড আই খান, সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার একরামুল কবির, হিউমেন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের সভাপতি কাজী ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

Comments

comments