বেরোবির রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবিতে নীলদলের স্মারকলিপি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববদ্যিালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীরের অপসারণ চেয়ে ভিসির বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর চেতনা, আদর্শ ও মুল্যবোধে উজ্জীবিত শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল। বুধবার নীল দলের সভাপতি ড. শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি উপাচার্যের পিএস আমিনুর রহমানের কাছে দেওয়া হয়।

উপাচার্যের পিএস আমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাড়ে তিনটায় নীলদল থেকে আমাকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে আমি সেটি উপাচার্যের কাছে দিয়েছি। স্মারকলিপিতে রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীরের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ এনে বলা হয়- তিনি বরাবরই বিশ্ববদ্যিালয়ের শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ করেন।

বুধবার উপাচার্য কর্তৃক ক্যাম্পাসে সিসি টিভি উদ্বোধনের পর সহকারী প্রক্টর ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমানের সাথে রেজিস্ট্রার অসদাচারণ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ড. শফিকুর রহমানও উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই শিক্ষকবৃন্দের সাথে অশোভন আচরণ করতে থাকেন। তার এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শিক্ষকগণ বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করলেও তিনি তার অশোভন আচরণ অব্যাহত রেখেছেন। উপাচার্য কর্তৃক যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদনের পরও বিভিন্ন দাপ্তরিক চিঠি ইস্যুতে বিলম্ব করে তিনি নানাবিধ সঙ্কট সৃষ্টির অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন।

শিক্ষকগণের ছুটি, এনওসি, প্রত্যায়নপত্র ও অভিজ্ঞতার সনদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেই চলেছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরিতে বসবাস করছেন। অথচ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন রিকুইজেশন ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন।

এভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিবহন ব্যবহার করায় রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তার চুক্তিভিত্তিক চাকরির ১১টি শর্তের কোথাও সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহারের কোন কথাই উল্লেখ নেই। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক ছিলেন।

সেখানে থাকালীন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে প্রভাষক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জনের তারিখ থেকে প্রদেয় সুবিধা নিয়মসিদ্ধ নয় উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছিলেন।

২০১৫ সালে তার সেই চিঠির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় গভীর সঙ্কটে পড়েছিল বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম কবীরকে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Comments

comments