রোগের ঝুঁকি কমাতে গাজর

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ও শাক-সবজি শরীরে ক্যানসার, হৃদরোগের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। গাজর হচ্ছে এমনই এক সবজি যাতে এরকম এন্টিঅক্সিডেন্ট ছাড়াও প্রচুর ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং আঁশ আছে। এছাড়া এতে আছে অ্যাসিড, ফোলেট, পটাসিয়াম, আয়রন, কপার এবং ম্যাঙ্গানিজ। নানা গুণে সমৃদ্ধ গাজর সারাবছরই বছরই পাওয়া যায়। এই সবজির সুবিধা হল এটি কাঁচা, সিদ্ধ কিংবা রান্না- সবরকম ভাবেই খাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, গাজরে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন ফুসফুস ক্যানসার এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া গবেষণায় এটাও প্রমাণ হয়েছে, গাজরের জুস লিউকেমিয়া সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

গাজরে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ আছে, যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, রাতকানা থেকে বাঁচায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিটামিন ‘এ’র অভাবে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি কমছে। নিয়মিত গাজর খেলে শিশুদের এই সমস্যা অনেকটা দূর করা সম্ভব।

গাজরে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমায়। আধা কাপ ছোট ছোট টুকরা করা গাজরে ১ দশমিক ৮ গ্রাম আঁশ এবং ২০৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। ৫০ বছর হওয়ার আগে একজন পুরুষের দিনে ৩৮ গ্রাম এবং নারীদের ২৫ গ্রাম আঁশজাতীয় খাবারের প্রয়োজন হয়। এই বয়সের পর পুরুষের দিনে ২১ গ্রাম এবং নারীদের ৩০ গ্রাম এমন খাবারের প্রয়োজন হয়। গাজর শরীরের এই চাহিদা পূরণ করতে পারে। গাজরে থাকা পটাশিয়াম রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এতে একদিকে যেমন শরীরের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে, তেমনি হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।

গাজরে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হাভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, গাজরে বিটা ক্যারোটিন থাকায় যারা রোজ গাজর খায় তাদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি শতকরা ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন এন্টি এজিং হিসাবেই শরীরে কাজ করে। এছাড়া এর ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।এই কোলাজেন ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। পাশাপাশি ত্বকে বলিরেখা পড়া কিংবা চামড়া কুচকে যাওয়া রোধ করে।

Comments

comments