নৌমন্ত্রী এবার ব্যাংক খাবে!

সংবাদ ডেস্ক

শাহজাহান খান (ফাইল ফটো)

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। কিন্তু পরিবহন খাতের শ্রমিকনেতা হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। লম্বা সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। শ্রমিকনেতা হিসেবে তিনি সমালোচিত। শ্রমিক স্বার্থের দোহাই দিয়ে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তিনি মোটেই সঙ্কোচবোধ করেন না। ২০১১ সালে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার পর ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা’র দাবিতে পেশাজীবীরা দেশে তখন আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালকের মুক্তি, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার মত আজব সব দাবিতে মালিক-শ্রমিক সমাবেশ করেন শাজাহান খান।

আজ বুধবার তিনি ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকে আসছেন বলে জানা গেছে। প্রথম আলোর তথ্য মতে তিনি নাকি ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ) নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন। নৌমন্ত্রী হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের সাথে তার এ বৈঠকের চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো তার এ বৈঠকের আয়োজন সংশ্লিষ্ট ব্যাপারগুলো। এ সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন শাখা কার্যালয়ের ১৮ নেতাকে যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তাই নয়, অংশগ্রহণকারীদের বুধ ও বৃহস্পতিবারের সভায় অংশগ্রহণকে অফিসের কর্মসময় হিসেবেও গণ্য করা হবে।

এ খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘আমার ৫৪ বছরের কর্মজীবনে এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনিনি। শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের মতো কার্যক্রম চালাবে। এ জন্য আলাদা করে ভাতা দেওয়া, সভার সময়কে অফিস সময় হিসেবে গণনা করা—এটা কীভাবে সম্ভব! রীতিমতো অভিনব ঘটনাটি। এটা দিয়েই বোঝা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কোন দিকে যাচ্ছে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘এটা তো রীতিমতো বেআইনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজে এলে ভাতা পেতে পারে। আর নৌপরিবহনমন্ত্রী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার কে? আমার চাকরিজীবনে এমন ঘটনা শুনিনি।’ তিনি বলেন, ‘সব সময় দেখেছি, সিবিএ কলুষিত কাজে জড়িত। এরপরও তাদের এমন সুবিধা দিতে শুনিনি। হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল, বোধগম্য হচ্ছে না।’

সকল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে নৌমন্ত্রী এ খবরদারির সংবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অধিকাংশ পাঠক। দৈনিক প্রথম আলো এ খবরের শিরোনাম করেছে “নৌমন্ত্রী এবার ব্যাংক খাতে”। আর এ খবরে হাবিবুর রহমান হারুন নামে একজন পাঠক মন্তব্য করেছেন ‘প্রথম আলো শিরনামে ভুল হয়েছে। শিরোনামটি “নৌমন্ত্রী এবার ব্যাংক খাতে” না করে ‘নৌমন্ত্রী এবার ব্যাংক খাবে’ হওয়া উচিত ছিল। ’

খান সাব্বির এনাম লিখেছেন-‘ভবিষ্যতে আরো বিভিন্ন সেক্টরে মন্ত্রী মহোদয়কে দেখতে পাব। দেশের সব সেক্টরের মহান দায়িত্ব এখন উনি নিজেই নিয়েছেন!’ সাইয়্যেদ শিমুল লিখেছেন- ‘নৌমন্ত্রী একাই একশ, ওনাকে আরও দু চারটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হোক।’

আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বাপ্পি লিখেছেন ‘নৌ, সড়ক, রেল ও গার্মেন্টস সবর্শেষ ব্যাংক। নৌমন্ত্রীর কাছে পুরো দেশ বন্দী । প্রধানমন্ত্রীর বদলে আমরা নৌমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখবো!’

মিজান রেজা লিখেছেন-‘সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহক সেবা না দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে গল্পগুজব করে টাইম পাস করে আবার তারাই নিজেদের জোটবদ্ধ করে বিভিন্ন দাবি দাওয়ার আদায়ের জন্য। দেশটা এদের জন্যেই পিছিয়ে যাচ্ছে।’

আবুল হাসানাত লিখেছেন-‘ব্যাংকিং জানাটা তার কাজ নয়, তার কাজ একটাই, নিজের লোকজনদেরকে যথাস্থানে ফিট করা। তিনি তা সাফল্যের সাথে করতে পারছেন। এ পর্যন্ত কোথাও ফেল করেননি।’

নৌমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শাহজাহান খানের এই বিতর্কিত বৈঠক আসলে কি উদ্দেশ্যে তা পরিস্কার হতে আরো কিছু সময় লাগবে। কিন্তু তা দেশের ব্যাংকিং খাতকে কোন দিকে ধাবিত করবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েই গেল।

Comments

comments