খাবার নেই, হোটেল বন্ধ, না খেয়েই সমাবেশে অনেকে

দুপুরের খাবারের জন্য ফুটপাতের আনারসের দোকানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড়। ছবি: প্রিয়.কম

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের দুপুরের খাবার নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এসব নেতাকর্মীদের জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপি কোনো খাবারের আয়োজন রাখেনি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকার বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোরাও বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো এলাকার নেতারা প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবস্থা করলেও বেশিরভাগ নেতাকর্মীকেই না খেয়ে সমাবেশে থাকতে হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর থেকে সমাবেশে যোগ দেওয়া মাসুম নামে একজনকে দেখা গেল রাস্তার পাশে বসে খাবার খেতে। তিনি জানান, তাদের গত রাতে বাসে করে ঢাকায় এসেছেন। সকালে হাল্কা নাস্তার পর দুপুরে বিরিয়ানির প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। বিএনপির এই কর্মী জানালেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দুপুরে সাতশো প্যাকেট খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আগের রাতে কেন ঢাকায় এসেছেন? জানতে চাইলে এই কর্মী বলেন, গাড়ি আটকে দিতে পারে এই আশঙ্কা তারা আগেই করতে পেরেছিলেন। আর একারণেই আগেভাগে চলে আসা।

কমলাপুরের মুগদা থেকে সমাবেশে যোগ দেওয়া হারুন মিয়া বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আসছিলাম, তাদের হারায় ফেলছি। এখনও কিছু খাইতে পারি নাই।’

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ থেকে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন তারেক নামের এক কর্মী। এই কর্মী জানালেন, তিনি কারও সঙ্গে আসেননি। আশেপাশে কোনো খাবার দোকান না পেয়ে ফুটপাতের আনারস বিক্রেতার কাছ থকে কিনে খেয়েছেন। তবে তিনি বলেন, সুযোগ বুঝে ওই বিক্রেতা দশ টাকার আনারস ২০ টাকা নিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের শাহবাগ, রমনা কালী মন্দির, দোয়েল চত্বরসহ আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ হোটেল বন্ধ। তবে ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতারা বসেছেন। এসব দোকানগুলোতে ভিড় করতে দেখা গেছে বিএনপির কর্মীদের।

প্রসঙ্গত, দুই বছর পর রাজধানীতে কোনো সমাবেশ আয়োজন করেছে বিএনপি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার। বিএনপির সমাবেশ হলেও এতে জোটসঙ্গি জামায়াতের নেতাকর্মীদেরও যোগ দিতে দেখা গেছে।

প্রিয়ডটকম

 

Comments

comments