রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় ধর্ম অবমাননার প্রতিক্রিয়ায় হামলা-সংঘাত, যা জানা গেল

উস্কানির সূত্রপাত: ২৮ অক্টোবর ২০১৭ রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামের টিটু রায় (৪০) নামে এক যুবক ‘এমডি টিটু’ নামে তার ফেইসবুক আইডিতে মুহম্মদ (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর উক্তি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়(১)। সরকারপন্থী অনলাইন বাংলা ট্রিবিউন জানায় যে, এই স্ট্যাটাসটিকে ঘিরে মাসখানেক ধরে পাশের এলাকায় বেশ আলোচনা হচ্ছিল এবং টিটুর বিচারের দাবিতে তাদের গ্রামে হামলার হুমকিও আসছিল(২)।

অর্থাৎ, ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টের সূত্রপাত ২৮ অক্টোবরের আগে থেকেই ঘটেছে এবং এর একটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, জল্পনা-কল্পনা এলাকায় হাজির ছিল। এই বিষয়ের সত্যতার জন্য অভিযোগকারী টিটু রায়ের ফেইসবুক প্রোফাইল (যা MD Tito নামে ব্যবহার করা হচ্ছে) অনুসন্ধানে জানা যায় ফেইসবুক আইডিটি ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে ২৪ অক্টোবর ২০১৭ প্রথম ইসলামের নবীকে অবমাননা করে একটি কুরুচিপূর্ণ স্ক্রিনসট শেয়ার করা হয়।

প্রতিক্রিয়া: প্রথম প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্থানীয় লালচাঁদপুর গ্রামের মুদি দোকানি আলমগীর হোসেন এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ২৯ অক্টোবর থানায় মামলা করেন(৩)। মামলার অগ্রগতির কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।

দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা গেছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অহিংস নাগরিক সমাবেশ। ৬ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার রাত সোয়া ৯টায় পাগলাপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম মাষ্টারের নেতৃত্বে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সহ সর্ব স্তরের মানুষ এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে টিটু রায়ের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে(৪)।

তৃতীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবেও সংগঠিত হয়েছে অহিংস সর্বদলীয় নাগরিক সমাবেশ। ৭ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার বাদ যোহর শত শত মুসল্লিসহ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ পাগলাপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সমাবেশে পুলিশ প্রশাসনের সজাগ উপস্থিতি দেখা গেছে। সমাবেশে সরকার দলীয় নেতা রংপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সহকারী অধ্যাপক এ এক এম হালিমুল হক বক্তব্য রাখেন(৫)।

সংঘর্ষের সূত্রপাত: উপরোক্ত নাগরিক সমাবেশ থেকে দেয়া আবেদন, নিবেদন, আল্টিমেটাম এবং মামলা স্বত্বেও অভিযোগকারীকে গ্রেফতার না করায় এ ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ সলেয়াশাহ বাজার এলাকায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। শুক্রবার ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ বাধা দেয়। বিক্ষুব্ধরা এসময় কটুক্তিকারী যুবকের এলাকা সলেয়াশাহ হিন্দুপাড়া ও ঠাকুরপাড়ায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার(৬)।

জীবনহানী ও ক্ষয়ক্ষতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাবার বুলেট, টিয়াসেল নিক্ষেপসহ লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এতে মাহাবুবুল, জামিল ও আলিমসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়, ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। ২ জন নিহত হয়, উভয়ই মুসলমান(৭ )।একজনের নাম হাবিবুর রহমান (৩০)(৮)। আরেকজন হামিদুল ইসলাম(৯)। কিছু অসমর্থিত সূত্রে নিহতের সংখ্যা ৪-৬ জন দাবী করা হয়েছে। পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের মধ্যেই হামলাকারীদের একদল গিয়ে ঠাকুরপাড়া গ্রামে কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে টিটু রায়ের তিনটি, সুধীর রায়ের ছয়টি, অমূল্য রায়, বিধান রায় ও কৌশল্য রায়ের দুটি করে ৬টি, কুলীন রায়, ক্ষিরোধ রায় ও দীনেশ রায়ের একটি করে তিনটি ঘর ভস্মীভূত হয়(১০)।

সরকারপন্থী অনলাইন বাংলা ট্রিবিউন ক্ষয়ক্ষতিকে আরো বাড়িয়ে প্রচার করেছে। তবে অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমের মতে উপরোক্ত হিসেবকেই সঠিক মনে হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন মতে, ৮টি বাড়ির ১৫টি ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে(১১)। বাংলা ট্রিবিউন সেটাকে বাড়িয়ে বলেছে ৩০টি বাড়িতে আগুন এবং ভাঙচুর করা হয় ২০টি বাড়ি(১২)।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও গ্রেফতার বাণিজ্য: এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানার এসআই রেজাউল করিম ও কোতোয়ালি থানায় এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছেন। এসব মামলায় দুই হাজারের বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে। কোতোয়ালি পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ থানার মামলায় ইনামুল হক মাজেদি, মাসুদ রানা, সিরাজুল ইসলাম ও মোস্তাইন বিল্লাহকে প্রধান আসামি দেখানো হয়েছে। যাঁদের সবাই সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত(১৩)।

দুই হাজার মানুষকে আসামী করাকে কেন্দ্র করে সাধারণ নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও সেখান থেকে গ্রেফতার বাণিজ্যের আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া কোন ধরণের তদন্ত ছাড়াই পুলিশের স্থানীয় এসপি বিএনপি-জামায়াত কে দায়ী করে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। ফলে, পুলিশের অজ্ঞাতনামা আসামীর প্রাথমিক লক্ষ্য হতে পারে সরকার বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই ঘটনায় কি পুলিশ দায় এড়াতে পারেন? মামলা, স্মারক লিপি, সমাবেশের মত অহিংস কর্মসুচীকে তাঁরা যথাযথভাবে আমলে নিয়েছেন বলে মনে হয় নি। কেবল মাত্র সংঘর্ষের পর তাঁদের তৎপর হতে দেখা গেছে। এই বিষয়ে প্রথম আলোর সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ যথার্থই প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘৫ নভেম্বর মামলা হলো, কয়েক দিন প্রচার হলো, ১০ নভেম্বর সকাল থেকে উসকানি চলল, আর ওসি বলছেন ‘হঠাৎ করে’? পুলিশ মাঠে নামল ১০ নভেম্বর, আগুন লাগানোর পর। তখন আর পরিস্থিতি সামলাতে বেগ পেতে হয়নি তাঁদের(১৪)।

ক্ষতিপূরণ: হিন্দু ধর্মালম্বী ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তার লক্ষ্যে। পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে। রংপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান প্রথম আলো কে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘর নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ১০টি পরিবারকে তিন হাজার টাকা করে এবং ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। ঘর তৈরির জন্য যা প্রয়োজন, তার সবই দেওয়া হবে। এ ছাড়া সদর ও গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার করে টাকা এবং হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছে। হরিদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাবার দিচ্ছে(১৫)। সংঘাতে আহত, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ মুসলিমদের কোন ধরণের সরকারী-বেসরকারী সহায়তার খবর মিডিয়ায় পরিলক্ষিত হয় নি।

রাজনীতি ও নির্বাচন: রংপুরের এই ঘটনার সাথে সাথেই ক্ষমতাসীন দলকে দ্রুত তৎপর হতে দেখা গেছে।গত বছর ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার ঘটনা থেকে নিশ্চয়ই তাঁরা শিখেছেন যেখানে প্রায় একই ধরণের সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দায় পরেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের ওপর। এমতবস্থায় এই ঘটনায় দেখা গেল, পুলিশকে রাজনৈতিক দলের নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে। রংপুরের এসপি মিজানুর রহমান শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেন, “সামনে নির্বাচন। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য জামাত-শিবির এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত এবং পরবর্তী পর্যায়ে গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী(১৬)।”

এই হামলায় বিএনপির স্থানীয় নেতারা ছিলেন বলেও দাবি করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “হামলায় সদর উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক এনামুল হক মাজেদি, স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানা এবং শলেয়াশাহ জামে মসজিদের ইমাম সিরাজুল ইসলাম ও খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য মোস্তাইন বিল্লাহকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে(১৭)।”

পুলিশের এই ধরণের রাজনৈতিক বক্তব্য বাংলাদেশে নতুন নয়। এই ধরণের বক্তব্যের বার্তা একটাই-সরকার প্রশাসনকে এই বক্তব্যের আলোকেই তদন্ত করতে নির্দেশ দিচ্ছে। হয়ত আদৌ কোন তদন্তই আর হবে না। কেননা ফলাফল তো ইতিমধ্যেই ঘোষিত হয়ে গেছে। সরকারপন্থী অনলাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ইতিমধ্যে ‘চার ইন্ধনদাতা চিহ্নিত’ শিরোনামে খবরও প্রকাশ করে দিয়েছে পুলিশের বক্তব্য অনুসারে(১৮)।

যার পোষ্টকে কেন্দ্র করে এত দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়ে গেল, মানুষ খুন হল সেই টিটু রায়কে পুলিশ আজ পর্যন্ত সনাক্ত করতে পারেনি। ২৯ অক্টোবর মামলা হবার পরও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি, সেই পুলিশ ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রধান বিরোধী দলের নেতা কর্মীদেরকে ইন্ধনদাতা হিসেবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই ধরণের রাজনীতিকরন ও পারস্পরিক দোষারোপের কারণেই আজ অবদি সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো নির্যাতন, নিপীড়নের একটিরও যথাযথ কোন সুরাহা করেনি সরকার।

পুলিশের এসপি একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করছেন। কিন্তু ডিসেম্বরেই রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও রয়েছে। গতকালই খবর বেরিয়েছে, সেখানে বর্তমান আওয়ামীলীগের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু কেই দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এর সাথে কি উপরোক্ত ঘটনার কোন সম্পর্ক আছে(১৯)?

সংসদ নির্বাচনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে জানা যায়, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামটি রংপুর-৩ আসনের অন্তর্গত। সেখানকার বর্তমান এমপি হচ্ছে, সরকারের শরিক ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ। শক্রবারের রক্তাত্ব সংঘাতময় ঘটনার পর এরশাদ কিংবা জাতীয় পার্টির কেউ পৌঁছার আগেই প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ, সে এলাকা পরিদর্শন করেছে আওয়ামী লীগের একটি দল। শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-১ আসনের সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপালসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা সেখানে যান। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে(২০)। আগামী নির্বাচনে রাজনীতির নতুন সমীকরণের লক্ষ্য নিয়েই সাম্প্রদায়িক বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে কিনা সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রতিবাদ: ধর্মঅবমাননার গুঁজব ছড়িয়ে সংগঠিত সংঘাতময় সংঘর্ষের প্রতিবাদে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করেছে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চার প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনার সাথে রাজনৈতিক সম্পর্কের যে কথা পূর্বে আলোচিত হয়েছে সেই কথারই প্রতিধ্বনি ঘটেছে বামপন্থিদের প্রতিবাদ সমাবেশে। সেখানে বলা হয়,

‘সংখ্যালঘুদের উপর এসব হামলা ঘটছে ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ মদদে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে এর পিছনে। সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর আক্রমণ করে ভয় দেখিয়ে তাদের তাদের ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করে ভূমি দখল করার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়ে থাকে সন্ত্রাসীরা এসব হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে তাদের নিরাপত্তা দেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ এ পরিণত করতে এ পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বক্তাদের অনেকে(২১)।’

ইসলামপন্থী দলের মধ্যে, জামায়াত ইসলামী পুলিশ কর্তৃক আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন,’জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করার অসৎ উদ্দেশ্যেই পুলিশ কর্মকর্তাগণ মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন।‘ জামায়াতের ঐ নেতা উপরোক্ত ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবী করেন।২২ হিন্দুত্ববাদী এক্টিভিস্ট Nayan Saha তাঁর ফেইসবুকে মন্তব্য করেন,

”রংপুরে বিএনপি- জামাত নেই। জামাতের হাজার দশেক ভোট থাকলেও বিএনপি’ র কিন্তু তাও নেই। অতীতে বিভিন্ন হিন্দু নির্যাতনে, এমনকি নাসিরনগর ঘটনাতেও আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ আসল ঘটনাকে লুকিয়ে রাখতে বিএনপি- জামাতকে দায়ী করতেন। রংপুরের ঘটনাতেও ভিন্ন কিছু ঘটেনি(২৩)।’’

জামায়াতের পাশাপাশি রংপুরের সদর উপজেলার পাগলাপীর ঠাকুরপাড়া গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করার জন্য ও সরকারকে বিতর্কিত করতে কোনও চক্র এ হামলা চালিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান চরমোনাই পীর। বিবৃতিতে তিনি মন্তব্য করেন, প্রশাসন কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারবে না(২৪)।

সাম্প্রদায়িক না অন্য কিছু? রংপুরের ঘটনাকে অনেকেই সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে পরিচিতি দেবার চেষ্টা করছেন। বামপন্থী চিন্তক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ এই বিষয়ে লিখেন,

“১০ নভেম্বর দুপুরের হামলার পর আক্রান্ত হিন্দুরা পাশের গ্রামের মুসলমান প্রতিবেশীদের কাছেই আশ্রয় পেয়েছিল। যে দেশে জমি নিয়ে প্রতিবেশী প্রতিবেশীকে খুন করে, মামলা দেয়, সেই দেশে প্রতিবেশী মুসলমানকে দিয়ে প্রতিবেশী হিন্দুর বাড়িতে হামলা করানো এখনো কঠিন। এটা একটা লক্ষণ, যা বলে বিষয়টি যতটা না সাম্প্রদায়িক, তার চেয়ে বেশি অন্য কিছু।

ভারতীয় সমাজ-মনস্তত্ত্বের গবেষক আশীষ নন্দী দাঙ্গা নিয়ে গবেষণার জন্য দুনিয়ায় ভালোই বিখ্যাত। বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং তার পরের দাঙ্গা নিয়ে গবেষণা করে বইও প্রকাশ করেছেন। নন্দীর প্রথম কথা হচ্ছে, দাঙ্গা শহুরে ব্যাপার (ফেসবুক আসার পর গ্রাম ও শহরের আর পার্থক্য থাকছে না। গুজব-ছবি-উসকানি খুব দ্রুত ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়, তাই ফেসবুকে থাকা মানেই শহুরে যোগাযোগ জালের মধ্যে ঢুকে পড়া)। দ্বিতীয়ত, দাঙ্গা সব সময়ই রাজনৈতিক কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত করা হয়, স্বতঃস্ফূর্ত দাঙ্গা বলে কিছু নেই। দাঙ্গার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকবেই। সব দাঙ্গাই ২-৬ ঘণ্টার মধ্যে থামানো যায়। না থামলে ধরে নিতে হবে, ক্ষমতাসীনেরা এর পেছনে—ঠিক যেমনটা ঘটেছিল অযোধ্যায় ও গুজরাটে(২৬)।”

ফেইসবুক আইডিটি টিটু রায়েরই: সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ আনতে হলে দেখতে হবে ঘটনার সূত্রপাত কোথা থেকে, উস্কানি দেয়াটাও সাম্প্রদায়িকতার অংশ কিনা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম পরিবারের বরাতে বলার চেষ্টা করছে ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননাকারী টিটু রায় নিরক্ষর, কেউ বলছে আসলে ফেইসবুক আইডি টি তাঁর নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত রসরাজের ক্ষেত্রেও এমন তৎপরতা দেখা গেছে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে দেয়া পরস্পর বিরোধী বক্তব্যের আলোকে এসব দাবীর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। তিনটি ঘটনা এখানে তুলে ধরা যাক।

প্রথমত, টিটুর মা জীতন বালা সমকালকে বলেন, ‘হামার ছইল (ছেলে) তো প্রাইমারিও পড়ে নাই। তিন চার বছর ব্রাক স্কুলে গেছে। সে লিখবে কীভাবে? আর যদি লেখে থাকে, তাইলে তার শাস্তি হউক। আর যারা হামার বাড়ি পুড়ি দেইল তামারও (তাদের) শাস্তি দিতে হবে(২৭)।’

এখানে টিটুর মা স্বাভাবিকভাবেই বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবার ঘটনায় সব হারিয়ে নির্বাক হয়েছেন। এমন মানসিক অবস্থায় কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে তাকে উদৃত করে বলেছে টিটু নিরক্ষর। তিন চার বছর ব্রাক স্কুলে যাওয়া কেউ হয়ত স্বল্প শিক্ষিত হবেন কিন্তু নিরক্ষর হবেন কিনা সন্দেহ থেকে যায়। তাছাড়া তিনিই বলছেন- ‘যদি লেখে থাকে, তাইলে তার শাস্তি হউক’। এই দায়িত্ব এখন পুলিশের।

দ্বিতীয়ত, পুলিশের একজন দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, টিটুর নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চালু করার বিষয়টি ধারণা করা হলেও এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, যে আইডিতে মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করা হয়েছে সেই আইডিটি টিটু রায়ের। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে সার্চ দিলে আলোচিত সেই ফেসবুক আইডি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। আরও তথ্য জানতে পুলিশ কাজ করছে(২৮)।

তৃতীয়ত, টিটু রায়ে’র ফেইসবুক প্রোফাইলে গত দুই মাসে অনেকগুলো সেলফি ইমেজ আপলোড করা হয়েছে। ফেইসবুকে ভুয়া আইডি করা যায়, সেই আইডি দিয়ে অপপ্রচার করা যায়। কিন্তু কোন ব্যক্তির নিজের আইডি ছাড়া তাঁর সেলফি আপলোড করা যায় এমন প্রযুক্তি আছে বলে আমাদের জানা নেই। টিটু একাধিক ছবিতে যেই এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশানটি ব্যবহার করে সেলফি তুলেছেন সেটি একটি জনপ্রিয় এপস। BeautyCam এপসটি মোবাইলে ব্যবহার করেই একাধিক সেলফি টিটু রায়ের ফেইসবুক আইডিতে আপলোড করা হয়েছে(২৯)। উপরোক্ত তিনটি ঘটনা প্রমাণ করে ফেইসবুক প্রোফাইলের ব্যক্তিটি টিটু রায়েরই। এমতবস্থায়, সাম্প্রদায়িক উস্কানির দায় তাঁর ওপরও বর্তায়।

উপরোক্ত আলাপ-আলোচনাকে সুংক্ষেপ করলে যা দাঁড়ায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বল্প শিক্ষিত টিটু রায়ের ধর্মীয় অবমাননাকর একটি পোস্টের কারনে রংপুরের ঠাকুরপাড়ার সাধারণ ধর্মপরায়ন মুসলিমেরা মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাঁর প্রতিকারের লক্ষ্যে প্রায় ২ সপ্তাহ আগে থেকেই যথাযথ আইনী ও অহিংস পদ্ধতিতে তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। সে প্রক্রিয়ায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় এবং এক পর্যায়ে প্রতিবাদমুখর মুসল্লিদের ওপর গুলি চালালে অন্তত দুই জন নিহত হয়। এরপর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে সুযোগ সন্ধানী কেউ কেউ হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮টি বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করেন এবং বস্তুগত অনেক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারকে সরকারী-বেসরকারী উপায়ে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে।

শেষ করা যাক, পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এবং দলিতদের অধিকার আন্দোলনের একজন এক্টিভিস্ট সুক্রিতি রঞ্জন বিশ্বাসের একটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে। তিনি এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ ঘুরে গিয়ে লেখেন,

‘শুনছি পশিমবঙ্গ নাকি বিজেপি-র পরবর্তী টার্গেট। সেটার জন্য বাংলাদেশে একটা সাম্প্রদায়িক গণ্ডগোল এখানে তাদের জন্য সুশীতল হাওয়া এনে দিতে পারে(৩০)।’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উস্কানী দিয়ে রাজনৈতিক ও আর্থিক ফায়দা লুটার সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীদের দিকে আমরা নজর রাখব।পাশাপাশি আমাদের এখানে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করে সীমান্তের ওপারে কেউ ফায়দা তুলছে কিনা বা ফায়দা তোলার নিমিত্ত্বেই এসব করছে কিনা সেই বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে আমাদের।

রেফারেন্স:

১। চ্যানেল আই অনলাইন, ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে রংপুরে সংঘর্ষ, নিহত ২, ১০ নভেম্বর ২০১৭, https://goo.gl/UP1wCM
২। বাংলা ট্রিবিউন, সেই ফেসবুক আইডি খুঁজছে রংপুরের পুলিশ,নভেম্বর ১১, ২০১৭, https://goo.gl/fE98ac)
৩।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম,রংপুরে হিন্দু বাড়িঘরে হামলায় ‘জামায়াত-শিবির’: পুলিশ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1419845.bdnews
৪। দৈনিক ইনকিলাব, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও মক্কা শরীফ অবমাননাকারী টিটুর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ, ৯ নভেম্বর, ২০১৭, https://www.dailyinqilab.com/article/103465
৫। দৈনিক ইনকিলাব, পূর্বোক্ত
৬। চ্যানেল আই অনলাইন, পূর্বোক্ত
৭। চ্যানেল আই অনলাইন, পূর্বোক্ত
৮। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম,রংপুরে হিন্দু বাড়িঘরে হামলায় ‘জামায়াত-শিবির’: পুলিশ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1419845.bdnews
৯। বাংলা ট্রিবিউন, ফেসবুকে কথিত স্ট্যাটাস দেওয়া টিটু রায় ‘নিরক্ষর’, এলাকায় নেই ৭ বছর, নভেম্বর ১১ , ২০১৭, https://goo.gl/Tdt4po
১০। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম,রংপুরে হিন্দু বাড়িঘরে হামলায় ‘জামায়াত-শিবির’: পুলিশ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1419845.bdnews
১১। প্রথম আলো, ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে ৮ বাড়িতে আগুন, গুলিতে নিহত ১, ১১ নভেম্বর ২০১৭,https://goo.gl/VaMW2j
১২। বাংলা ট্রিবিউন, ফেসবুকে কথিত স্ট্যাটাস দেওয়া টিটু রায় ‘নিরক্ষর’, এলাকায় নেই ৭ বছর, নভেম্বর ১১ , ২০১৭, https://goo.gl/Tdt4po
১৩। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম,হিন্দুবাড়িতে হামলায় ‘চার ইন্ধনদাতা চিহ্নিত’: পুলিশ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1419983.bdnews)
১৪। ফারুক ওয়াসিফ, সাম্প্রদায়িক হামলার নকশাগুলো কেন একই রকম?, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://goo.gl/nbCE4L
১৫। প্রথম আলো, রংপুরে সহিংসতায় দুই মামলা, গ্রেপ্তার ৫৩, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://goo.gl/y2TFmE
১৬। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম,রংপুরে হিন্দু বাড়িঘরে হামলায় ‘জামায়াত-শিবির’: পুলিশ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1419845.bdnews
১৭। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, পূর্বোক্ত
১৮। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম,হিন্দুবাড়িতে হামলায় ‘চার ইন্ধনদাতা চিহ্নিত’: পুলিশ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1419983.bdnews
১৯। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, রংপুরে আ. লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন ঝন্টু, ১১ নভেম্বর ২০১৭,https://bangla.bdnews24.com/politics/article1420126.bdnews
২০। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম,হিন্দুবাড়িতে হামলায় ‘চার ইন্ধনদাতা চিহ্নিত’: পুলিশ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/article1419983.bdnews
২১। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, রংপুরে হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://bangla.bdnews24.com/politics/article1420144.bdnews
২২। জামায়াত ইসলামী, রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের মিথ্যা বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ, ১১ নভেম্বর ২০১৭,https://jamaat-e-islami.org/news-details.php?category=1&news=5215
২৩। Nayan Saha, ফেইসবুক পোষ্ট, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=507434326285107&id=100010556314945
২৪। বাংলা ট্রিবিউন ,সংখ্যালঘুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি চরমোনাই পীরের, নভেম্বর ১১, ২০১৭, https://goo.gl/fYm5XX
২৫। ফারুক ওয়াসিফ, সাম্প্রদায়িক হামলার নকশাগুলো কেন একই রকম?, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://goo.gl/nbCE4L
২৬। ফারুক ওয়াসিফ, সাম্প্রদায়িক হামলার নকশাগুলো কেন একই রকম?, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://goo.gl/nbCE4L
২৭। সমকাল, ‘আগুন দিয়া হামার সব শ্যাষ করি দেইল’, ১১ নভেম্বর ২০১৭, https://goo.gl/G2uad8
২৮। জাগো নিউজ, ফেসবুক আইডি টিটুরই,১১ নভেম্বর ২০১৭, https://www.jagonews24.com/country/news/372955)
২৯। BeautyCam এপসটি সম্পর্কে জানতে দেখুন; https://play.google.com/store/apps/details?id=com.meitu.meiyancamera&hl=en_GB
৩০। Sukriti Ranjan Biswas, ফেইসবুক পোষ্ট, ৩ এপ্রিল ২০১৭, https://www.facebook.com/muldharabd/photos/a.1034347426628580.1073741828.1030910963638893/1600703373326313/?type=3&theater

মূলধারা বাংলাদেশ

 

Comments

comments