শরীয়তপুরে যুবলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষ: অগ্নিসংযোগ-ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১৫

জেলার নড়িয়ায় যুবলীগে ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে ৭টি মোটরসাইকেল। এছাড়া ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের মশুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ও অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

নড়িয়া থানা, যুবলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগে ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার শয়রীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় যুবলীগের দুটি গ্রুপ পৃথকভাবে কর্মসূচি দেয়। একটি গ্রুপ সকাল ১০টায় নড়িয়া শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একেএম ইসমাইল হক। অপরদিকে বিকেলে যুবলীগের অপর গ্রুপ নড়িয়া থানা সংলগ্ন এলাকায় মাজেদা হাসপাতাল মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, শরীয়তপুর-২ আসনের অনির্বাচিত সংসদ সদস্য কর্নেল (অবঃ) শওকত আলী।

সকালের অনুষ্ঠান শেষে কিছু নেতাকর্মীরা ভোজেশ্বর মশুরা গ্রামের পেদা বাড়ি দুপুরের খাবারের আয়োজন করে। সেখানে নেতাকর্মীরা খাবার শেষে বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে অপর গ্রুপ নড়িয়ায় অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় হামলা করেছে বলে যুবলীগ কর্মী নুরুল ইসলাম তনু দাবি করেছেন। হামলায় যুবলীগকর্মী সজিব শেখ, কাওসার আহমেদ, রফিক হাওলাদার, মিঠু হাওলাদার, রাজন বেপারীসহ অন্তত ১০জন আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা ৭টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এ ঘটনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নড়িয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকরা যুবলীগকর্মী নাসির দেওয়ানসহ দুইজনকে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে বলে জানিয়েছে যুবলীগকর্মী শহীদুল দেওয়ান। এ সময় হামলাকারীরা ৪/৫টি ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।যেকোনো মুহূর্তে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

শীর্ষনিউজ

Comments

comments