চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়া শহরে চলাচলকারী ইজিবাইকে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আবু সাঈদ শেখ (৩০) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে শহরের কলোনির করতোয়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে শহরে সার্কিট হাউসের কাছে ইজিবাইক স্ট্যান্ডে ইসলাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ছুরিকাহত করার প্রতিশোধ নিতে সাঈদকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসলাম আলী জানান, হামলাকারী ও হামলার শিকাররা একসঙ্গে থাকতেন। অভ্যন্তরীণ বিরোধে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত মামলা ও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ইজিবাইকে চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, শ্রমিক লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ৫-৬টি মোটরসাইকেলে যুবলীগ ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বেতগাড়ি বন্দর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম হোসেন, যুবলীগ কর্মী মিথুন, রাসেল, রাজন ও সৈনিক লীগ নেতা সবুজ সওদাগরসহ কয়েকজন সার্কিট হাউসের সামনে ইজিবাইক স্ট্যান্ডে আসে। তারা চালকদের কাছে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় এখানে গাড়ি চালাতে দেবেন না।

এতে রাজি না হলে তারা চেইন মাস্টার রাজন ও শাওন এবং কয়েকজন চালককে মারধর করেন। এক পর্যায়ে চেইন মাস্টারদের কাছে ৭ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেন তারা। এ সময় ওই স্ট্যান্ডের ইজিবাইক চালকরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তখন ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা শাজাহানপুর উপজেলার উত্তর বেতগাড়ি এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে ইসলাম হোসেন আহত হয়। তাকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা যুবলীগ নেতা ফজলে রাব্বী মিথুন দাবি করেছেন, ইজিবাইকে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফাহিম, নাসিম, রনি রায় ও অন্যরা এ হামলা চালিয়েছে। এদিকে শহরের লতিফপুর কলোনি এলাকার মৃত ইয়াসিন আলী শেখের ছেলে যুবলীগ কর্মী আবু সাঈদ শেখ শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কলোনি এলাকায় স্বচ্ছ ক্লিনিকের সামনে গেলে আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার মাথা, ঘাড় ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

জেলা যুবলীগের সদস্য সামসাদ আলম জানান, ছোট ভাই আবু সাঈদ তার ঠিকাদারি সাইড দেখাশোনা করার পাশাপাশি যুবলীগের রাজনীতি করত। ইজিবাইকে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় চকলোকমানের মৃত আবদুর রশিদ দারোগার ছেলে আহসানুল হাবিব রাসেল, তার ভাই রয়েল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাদুড়তলার মিঠুন, বৃন্দাবনপাড়ার পিয়াস, চকলোকমানের কামরানসহ ৮-৯ জন তার ভাইকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তার।

এ ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। বগুড়া জেলা সিএনজি ও ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি এবং শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাপ্পী দাবি করেছেন, চাঁদাবাজির শিকার ইজিবাইক চালকদের পক্ষে প্রতিবাদ করতে গিয়েই সাঈদ খুন হয়েছেন।

তিনি এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

Comments

comments