ভারতে রুশ সাবমেরিন লিজ কেলেঙ্কারি

রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন লিজ নিয়ে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছে ভারত। এ ঘটনায় নয়া দিল্লি ও মস্কোর মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারত প্রজেক্ট ৯৭১আই সাবমেরিনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে বলে রাশিয়া সন্দেহ করছে। ২০১১ সাল থেকে এই সাবমেরিন পরিচালনা করে আসছে ভারত। এই ঘটনা রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের আরেকটি পারমাণবিক সাবমেরিন লিজ নিয়ে আলোচনায় গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি দেশ দু’টির মধ্যে অন্যান্য সামরিক-কারিগরি সহায়তা প্রকল্পগুলোতেও টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সূত্র এই খবর নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, ভারতীয় অংশীদারেরা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সাথে বেশ কিছু ‘অবন্ধুসুলভ কাজ’ করেছে। এর প্রথমটি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌ প্রতিনিধিদল (ভারতীয় নৌবাহিনীর সম্পদ) বিমানবাহী রণতরী বিক্রমাদিত্য পরিদর্শন করে। এর ফলে রাশিয়ান কর্মকর্তারা এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হন। এর কিছু দিন পর একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক সূত্র রাশিয়ার কোমারসান্ত পত্রিকাকে জানায় যে, মার্কিন প্রতিনিধিদল সাবমেরিন চক্রতেও আরোহণ করেছে। সেনাবাহিনীর কারিগরি সহযোগিতা ব্যবস্থায় কাজ করে কোমারসান্তের এই সূত্র।

(বিশাখাপত্তম ঘাঁটিতে মেরামতের জন্য অবস্থান করা) রাশিয়ার সাবমেরিনে মার্কিন প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিকে ভয়ানক কাজ হিসেবে ওই সূত্র উল্লেখ করে। সূত্র বলে, ‘প্রতিনিধিদলে সুপ্রশিতি কারিগরি বিশেষজ্ঞ ছিলেন, যদিও তারা কোনো তথ্য হাতিয়ে নিয়েছেন কি না তা স্পষ্ট নয়।’ পত্রিকাটির মতে, এসব ঘটনা দুই দেশের সার্বিক প্রতিরা সহযোগিতার ওপর গুরুতর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

পাঁচ বছর ধরে এই সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিভিন্ন সূত্র জানায়, রাশিয়া এখন তার ভারতীয় অংশীদারদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি সূত্র বলে, ‘দিগন্তপানে খুবই কঠিন আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের অনেক প্রশ্ন আছে।’
কোমারসান্তের সাথে কথা বলেছেন এমন কয়েকটি সূত্রের বিশ্বাস, বিশেষ করে দ্বিতীয় পারমাণবিক সাবমেনির লিজ নেয়ার ব্যাপারে যে আলোচনা চলছে তা খুবই জটিল হয়ে উঠবে। কোমারসান্তের খবরে বলা হয়, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রোগোজিন আগামী মাসে ভারত সফর করবেন বলে কথা রয়েছে। সেখানে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ইস্যু ছাড়াও তিনি ভারতের জন্য পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গিবিমান তৈরি নিয়ে কথা বলবেন। ২০০৭ সালে এই চুক্তি সই হয়।

Comments

comments