রহস্যে ঘেরা সুবোধ নাবিলা

রাজধানীর বিভিন্ন দেয়ালে সুবোধ ও নাবিলার নামে রহস্যজনক চিত্রকর্ম ও পোস্টার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দেয়ালগুলো যেন নানা কারণে দিন দিন রহস্যে ঘনীভূত হয়ে উঠছে। কিছু দিন আগ থেকে নগরীর বেশ কিছু স্থানে দেয়ালে ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা’ এর আঁকা চিত্রকর্ম ছিল মানুষের আলোচনার বিষয়। এ আলোচনা শেষ হতে না হতেই নতুন করে যুক্ত হলো আরেকটি রহস্যজনক পোস্টার। যাতে লেখা নাবিলাকে নিয়ে। উক্তিগুলো মানুষের মনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, যা ইতোমধ্যে মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। তবে কে এই নাবিলা আর কে এই সুবোধ, তা নিয়ে রহস্যে থেকেই যাচ্ছে।

বেশ কয়েক মাস ধরেই রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী ও পুরনো বিমানবন্দরের দেয়ালে দেয়ালে ‘সুবোধ’ সিরিজের বেশ কিছু চিত্রকর্ম আঁকা হয়। কে বা কারা রাতের আঁধারে অথবা দিনের আলোয় এসব আঁকছে তা কেউ জানে না। দেয়ালচিত্রগুলোতে দেখা যায় সুবোধের হাতে খাঁচা। তাতে বন্দী লাল বা হলুদ রঙের সূর্য। ছবি ভেদে ক্যাপশনে লেখাÑ ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই, সুবোধ তুই পালিয়ে যাÑ এখন সময় পক্ষে না, সুবোধ তুই পালিয়ে যা ভুলেও ফিরে আসিস না, সুবোধ, কবে হবে ভোর?’

এবার নতুন করে যুক্ত হলো আরেকটি রহস্যজনক পোস্টার। নতুন চরিত্র। এবারের চরিত্রের নাম নাবিলা। পোস্টার নাবিলা। লাল পোস্টারে সাদা ছাপায় লেখা ‘নাবিলা জানো? একজন মুমূর্ষ রোবটের জন্য রক্তের প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ ঘ+ (এন পজিটিভ)। ‘নগরীর তেজগাঁও, সার্ক ফোয়ারা, কাওরান বাজার, মগবাজার, সায়েন্স ল্যাব ও ধানমন্ডিসহ বেশ কিছু এলাকার দেয়াল এ লাল রঙের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ঢাকার ব্যস্ততম এসব এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে, যাদের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এ পোস্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পৌঁছে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে এ পোস্টার নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই সুবোধের চিত্রকর্মের সাথে খুঁজে ফিরছেন নাবিলার যোগসূত্র। তবে সব কিছু ছাপিয়ে এখন একটা প্রশ্নই লোকমুখে ঘুরেফিরে আসছেÑ কে এই নাবিলা? কেনই বা একজন রোবটের জন্য তার কাছে রক্ত চাওয়া হচ্ছে? মুমূর্ষ রোবট দিয়ে কি মানুষের বিমর্ষ রূপ বোঝানো হয়েছে, কিংবা ক্রমেই হৃদয়হীন হয়ে ওঠা মানুষটাকেই বোঝানো হয়েছে? তবে কী সুবোধরা পালালে মানুষগুলো সব রোবট হয়ে উঠবে? আর তখনই কী প্রয়োজন পড়বে কোনো নারীর ছায়া অথবা আশ্রয়ের?

ফেসবুকে একজন লিখেছেন, “কে এই নাবিলা? সে নার্স না ডাক্তার? হতে পারে নাবিলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন ‘বাঁধন’ এর সাথে যুক্ত। যার কারণে রক্তের জন্য তাকেই বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এন পজিটিভ গ্রুপের রক্ত পরীক্ষা করেছে কে? কোনো রোবট না মানুষ? নাবিলা কি পিকে ছবির আমির খানের সাথে আসা কোনো মেয়ে রোবট?” আরেকজন কবি টাইপ ফেসবুকার ছন্দ মিলিয়ে লিখেছেন, ‘নাবিলাকে খুঁজছে কাবিলা’।

হুমায়ুন ভূঁইয়া নামে একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, দেয়ালে পোস্টার সেঁটে রাজধানী ঢাকায় চালু হয়েছে নতুন ট্রোল। সেই ট্রোলের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। গ্রাফিতিতে ‘সুবোধ’ সিরিজের পর এখন এটা বেশ আলোচনায়। ‘নাবিলা জানো’ শিরোনামে এই পোস্টার নগরবাসীর মধ্যে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। কে বা কারা এই পোস্টার তৈরি করেছে, আবার কারাই বা এই পোস্টার দেয়ালে সেঁটে দিচ্ছে। এ নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। অবশ্য অনেকে মনে করেছেন গ্রাফিতি ‘সুবোধ’ কর্মকাণ্ডের সাথে যারা যুক্ত, তারা সম্ভবত নতুন এই কৌশল অবলম্বন করছে।
তিনি লিখেছেন, রহস্যজনক এ পোস্টারে লেখা, ‘নাবিলা জানো? একজন মুমূর্ষ রোবটের জন্য রক্তের প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ (ঘ+)।’ যদিও এন পজেটিভ বলে বাস্তবে কোনো রক্তের গ্রুপ নেই। তবে এটি দিয়ে প্রতীকী কোনো কিছু বোঝানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পোস্টারে মুমূর্ষু শব্দটি ভুল বানানে লেখা। লেখা হয়েছে মুমূর্ষ। এ কাণ্ডের সাথে জড়িতদের বানানের অজ্ঞতা নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুমূর্ষু বানানটি ভুল লেখা হয়েছে, সেটাও অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে সাধারণ মানুষের বানান ভুল নিয়ে মাথাব্যথা নেই, তাদের কাছে বিষয়বস্তুই আসল।

পোস্টারটি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি নামে একজন লিখেছেনÑ ‘শহরে এসেছে এক নতুন পাগল, ধরো তাকে ধরে ফেলো এখনই সময়। পাগল রাগ করে চলে যাবে ফিরেও আসবে না…। পাগল কষ্ট চেপে চলে যাবে ফিরেও আসবে না…।’ Ñসঞ্জীব চৌধুরী। দ্বিতীয় প্যারায় তিনি লিখেছেন, শহরে দেয়ালে পোস্টার পড়েছে, নাবিলাকে কেউ ভালো বেসেছে।
অন্য একজন লিখেছেন, ‘এই পোস্টারে প্রশ্নের ছায়ায় যেন কাঠগড়ায় নাবিলা। যেনবা একজন মানুষ ক্রমে রোবটে রূপান্তরিত হয়েছেন, যিনি কিনা আবার মুমূর্ষু, যেন হৃদয়হীন রোবটের শরীরও আর সারভাইভ করতে পারছে না, তার এমন অবস্থার জন্য নাবিলার দায় আছে। তাহলে প্রশ্ন আসে, কে এই নাবিলা? আর এ মুমূর্ষু রোবটই বা কে? নামের মধ্য দিয়ে লিঙ্গ বিবেচনায় না নিয়ে বলা যেতে পারে, আমরা যে কেউ পরিস্থিতি ভেদে কখনো নাবিলা, কখনো আবার ওই মুমূর্ষু রোবট। তবে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রক্তদাতার ভূমিকায় আসবে কে?

আরেকজন লিখেছেনÑ নাবিলা জানো? ঢাকা শহরে ব্যাচেলরদের কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় না! একজন খুব আবেগে লিখেছেনÑ নাবিলা জানো? তোমার আমার অবস্থান একই আকাশের নিচে, কিন্তু দূরত্ব অনেক। এরকম অসংখ্য হ্যাশ ট্যাগ প্রতি মুহূর্তেই যুক্ত হচ্ছে ফেসবুকে। কিন্তু এর মাধ্যমে কী আর জানা যাবে, কে এই নাবিলা? কে-ই বা এ মুমূর্ষ রোগী, কেন তার এন পজেটিভ রক্ত প্রয়োজন, আর কি-ই বা তার উদ্দেশ্য?

নয়া দিগন্ত

Comments

comments