সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন: মিয়ানমারকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিধনযচজ্ঞের ফলে বাংলাদেশের ছয় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

বিবৃতিতে চীনেরও সম্মতি আদায় করা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে মিয়ানমারকে নানা বিষয়ে সমর্থন দিয়ে আসা চীন কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে ভেটো প্রদানের অবস্থান থেকে এখনো সরে আসেনি । রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে এছাড়া জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয় যিনি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মহাসচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবেন ।

জাতিসংঘে ব্রিটিশ উপ-রাষ্ট্রদূত জোনাথন অ্যালেন বলেছেন , মিয়ানমার এখন কি ধরেনের কি রকম প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাই তারা পর্যবেক্ষণ করবেন ।

চলতি সপ্তাহেই জাতিসংঘ মহাসচিব দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেখানেও আলোচনার প্রধান ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু।

মিয়ানমারে নির্যাতন হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের দাবি তুলেছে মানবাধিকার গ্রুপগুলো। কিছুদিন আগে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও আনান কমিশনের প্রধান কফি আনান পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন জনগোষ্ঠীর ওই শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তার নেতৃত্বাধীন কমিশন রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে সদস্য দেশগুলোর কাছে এমন একটি প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান, যা মিয়ানমারের ‘সরকারকে সত্যিকার অর্থেই মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে’।

Comments

comments