ফেনীতে বাসে আগুন: গ্রেফতার ১৬ জনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার

ফেনীতে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর মধ্যে ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) ফেনী সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।

রবিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে ফেনী সদরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম অসীম কুমার দে’র আদালেতে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৬ জনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। বিচারক মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইউছুপ আলমগীর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ইউছুপ আলমগীর বলেন, ‘আসামিদের রিমান্ড নামন্জুর করে আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার ধার্য করেন। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরীও একই তথ্য জানান।

ওসি রাশেদ খান চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গাড়িবহর নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ফেনীর মহিপাল পার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুইটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানা পুলিশের এসআই নুরুল হক বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি বরাত ও সাধারণ সম্পাদক মামুনসহ ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ২১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতাকৃতরা হলেন, সোনাগাজী পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল মোবারক ভিপি দুলাল, ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামাল হোসেন, ফেনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন বাবুল, ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন আজাদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, জাফর আহম্মদ, জয়নাল আবদীন, শাহাদাত হোসেন, মো. ফারুক, মো. আলমগীর হোসেন, মিশু, কামরুজ্জামান শিমুল ও জিকু। বাসে আগুন দেওয়ার পর পরই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় চালক মো. হারুন অর রশিদ, মো. রাকিব হোসেন, সহকারী আবদুল মালেক, হেদায়েত উল্যাহ, শ্রমিক দল নেতা আবুল কাশেম মিলন ও ফেনী সদর উপজেলা ফাজিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নূরে সালাম মিলনকে।

ওসি জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছাত্রদল নেতা নূরে সালাম মিলন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি ফেনী সদরের ফাজিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তবে ছাত্রদল নেতা মিলনের বাবা হাজী পেয়ার আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুদিন আটক রেখে দফায় দফায় মিলনকে নির্যাতন করা হয়। ক্রসফায়ারের হুমকিও দেওয়া হয়। মিলনকে স্বীকারোত্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়।

বাংলা ট্রিবিউন

Comments

comments