মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন শ্রীরামপুর জমিদারবাড়ি

বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জমিদারি প্রথা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীতে জমিদারি প্রথার সাক্ষী হয়ে আছে শ্রীরামপুর জমিদার বাড়ি। স্থানীয়দের কাছে ‘মিয়াবাড়ি’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়িটি। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে অবস্থিত জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে এমন কিছু স্থাপনা যা এখনো মুঘল স্থপত্যের সুনিপুণ কারুকার্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইতিহাস

বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খাঁন ১৭০০-১৭২৭ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। এ সময় শ্রী শিব প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্রী ভব প্রসাদ মুখোপাধ্যায় নামে দুই ভাই নবাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। কথিত আছে শ্রী শিব প্রসাদ নবাবের কাছ থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে শিবল খাঁ নাম ধারণ করলে নবাব খুশি হয়ে তাঁকে এক ভাটায় যত দূর যাওয়া যায় সেই পরিমাণ জমি এবং মিয়া পদবি প্রদান করেন। পরে শিবাল খাঁর পুত্র কালে খাঁ মিয়া বরিশালের বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ৫৬টি মৌজায় জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। যার প্রত্যেকটি মৌজায় একটি করে দীঘি ও মসজিদের অস্তিত্ব এখনো খুঁজে পাওয়া যায়। পটুয়াখালীর শ্রীরামপুর জমিদার বাড়ি থেকেই এই ৫৬টি মৌজায় পরিচালিত হতো তখনকার জমিদারি শাসন ব্যবস্থা।

যা দেখতে পাবেন

কালের সাক্ষী এ জমিদারবাড়িটির প্রবেশদ্বারে প্রথমেই দেখা যাবে নানা কারুকার্যে শোভিত কয়েকটি গেইট। বাড়ির ভেতরে আছে কয়েকটি প্রাসাদ। এ ছাড়া এখানে আছে একটি অন্ধকার কূপ। কথিত আছে চারদিকে প্রাচীর ঘেরা অন্ধকার কূপটিতে ফেলে দিয়ে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। তবে কালের বিবর্তনে কূপটির অস্তিত্ব না থাকলেও এর চারদিকের প্রাচীরগুলো তখনকার কঠোর বিচার ব্যবস্থার সাক্ষ্য বহন করে। অপরদিকে জমিদারবাড়ি এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু মোঘল স্থাপনা। বাড়ির অদূরেই রয়েছে সুনিপুন শিল্পকর্ম খচিত একটি মসজিদ। মজজিদটি এখনো ব্যবহার করে চলছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদটির অদূরেই রয়েছে এ অঞ্চলে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করা কালে খাঁ মিয়া ও তার স্ত্রী জুলেখার জোড়া কবর। যা বাঁধাই করে রাখা হয়েছে অত্যন্ত সুন্দর নির্মাণশৈলী দিয়ে। জমিদারবাড়ি থেকে ফিরে যাওয়ার পথে খালের ওপর দেখা যাবে মুঘল আমলে নির্মিত একটি ব্রিজ। প্রায় ৩০০ বছর আগে নির্মিত গম্বুজ আকৃতির ছোট্ট ব্রিজটিতে থাকা শিল্পকর্ম যে কাউকে মুগ্ধ করবে খুব সহজেই।

যাতায়াত

ঢাকা থেকে সড়ক ও নৌপথে সরাসরি পটুয়াখালী আসা যায়। সায়েদাবাদ ও গাবতলী থেকে সাকুরা, ঈগল, সোনারতরী, সুরভী ও কনকসহ বিভিন্ন বাস সার্ভিস যোগে পটুয়াখালী পৌঁছাতে জনপ্রতি খরচ হবে ৪০০-৬০০ টাকা। অপরদিকে সদরঘাট থেকে সুন্দরবন, কাজল, সাত্তার খান, প্রিন্স আওলাদ ও এআর খান লঞ্চযোগে পটুয়াখালী পৌঁছাতে লাগবে ৩০০-১০০০ টাকা। এ ছাড়া আকাশ পথে বরিশাল পর্যন্ত আসা যাবে। সেখান থেকে গাড়িযোগে জমিদারবাড়ি পৌঁছাতে খরচ হবে ২০০ টাকার মতো।

থাকা-খাওয়া

পটুয়াখালী জেলা শহরে থাকার জন্য রয়েছে প্রায় ১৫টি আবাসিক হোটেল। এসব হোটেলে রয়েছে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা। এখানকার সামুদ্রিক মাছ ও পায়রা নদীর ইলিশ খুবই বিখ্যাত।

Comments

comments