এ নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়?

আহমদ রফিক: বাংলাদেশের সমাজ দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে, ক্রমেই তা বাড়ছে। প্রশ্ন ও বিষয়ের নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতা নিয়ে। সে নিষ্ঠুরতা যেমন শিশু নির্যাতন, শিশুহত্যা, এমনকি অবিশ্বাস্য শিশু ধর্ষণে; তেমনি কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যায়। বাদ যাচ্ছে না তরুণী, ছাত্রী, পোশাক কারখানার তরুণী কর্মী, গৃহবধূ। কখনও তা গণধর্ষণে রৃপ নেয় অবিশ্বাস্য পাশবিকতায়। ‘পাশবিকতা’ শব্দটি বহু ব্যবহৃত। কিন্তু পশুসমাজ এদিক থেকে মানবসমাজের চেয়ে উচ্চতর অবস্থানে।

উল্লিখিত ঘটনাগুলো গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ঘটে চলেছে। অনেকটা সামাজিক ব্যাধির রৃপ ধারণ করেছে এ প্রবণতা। এ প্রবণতা শ্রেণি নির্বিশেষ। বিত্তবান, ধনাঢ্য পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত শ্রেণিসহ নিম্নবর্গীয় সমাজও এ অমানুষিক নিষ্ঠুরতার প্রকাশ। গৃহকর্মী তথা কিশোরী পরিচারিকা থেকে দরিদ্র পরিবারের শিশু-কিশোর-কিশোরী নানা উপলক্ষে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার।

বেশ কিছুদিন আগে কয়েকটি শিশু ও কিশোরকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে দৈহিক নির্যাতন ও ক্ষেত্রবিশেষে হত্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযোগ চুরির, যা প্রমাণের দাবি রাখে। কিন্তু সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির সচ্ছল সদস্যরা প্রমাণের ধার ধারে না। অনুমানই তাদের কাছে প্রমাণ এবং বিচারও তাদের হাতে। দেশের আইনি ব্যবস্থা তাদের কাছে তুচ্ছ বিষয়। আসলে তেমন মানসিকতারই বড় অভাব।

এই যে অপরাধপ্রবণতা, নিষ্ঠুরতা, সব শেষে ঘাতক মানসিকতার সামাজিক বিস্তার- এসব নিয়ে বিশেষ ভাবনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। ভাবনা যেমন ব্যক্তিবিশেষের, তেমনি সমষ্টিগত দিক থেকে সমাজ এবং সবচেয়ে জরুরি শাসকশ্রেণির। কারণ তারা দেশ শাসনের সুবাদে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়বদ্ধ। দায় রয়েছে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের এবং সব শেষে সুবিচারের। শেষোক্ত দায়টি পূর্ববর্তী প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সঠিক তৎপরতানির্ভর। বহু ক্ষেত্রে একাধিক কারণে প্রাথমিক পর্বের শিথিলতা নিয়ে অভিযোগ যথেষ্ট। স্বভাবতই ন্যায়বিচার দূর অস্ত।

বাংলাদেশ তার জন্মলঘ্ন থেকে নানা অনাচারের নৈরাজ্যে ভুগছে। সবচেয়ে বড় অশুভ সংকেত হলো, এসব অস্বাভাবিকতা হ্রাস পাওয়ার বদলে ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিছুকাল থেকে তা সমাজে অবিশ্বাস্য উচ্চতা অর্জন করে চলেছে। যে জন্য প্রায় প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে কিছু না কিছু নিষ্ঠুরতার ঘটনা, নারী ধর্ষণ বা হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হয়। আর তা পড়ে ভাবতে হয়- এ কোন সমাজে বাস করছি।

দুই. দীর্ঘ এ ভূমিকার পেছনে রয়েছে তিন দিন আগে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার একটি গ্রামে সংঘটিত একটি চরম নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। একে অবিশ্বাস্যও বলা যেতে পারে, যদিও বাংলাদেশি সমাজের বর্তমান মানসিকতায় অবিশ্বাস্য বলতে কিছু নেই। আর নেই বলেই বেশ কিছুকাল আগে নারায়ণগঞ্জে ঘটতে পেরেছে মেধাবী কিশোর ত্বকীর নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড, যে নৃশংস হত্যার বিচার চেয়ে এখনও কেঁদে চলেছেন ত্বকীর শোকার্ত বাবা রফিউর রাব্বি। একই শহরে ঘটতে পেরেছে একসঙ্গে সাত সাতটি খুন এবং সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, এ খুনে জড়িতর্ যাবের স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। অবশ্য চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া যথারীতি চলছে।

কয়েকটি ঘটনা উল্লেখের উদ্দেশ্য সমাজের দূষিত, এমনকি ঘাতক চরিত্র সম্পর্কে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ। যাতে সমাজে এসব দুর্বৃত্তপনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। কিন্তু তেমন লক্ষণ সমাজে সামান্যই দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে, বিরল সাংগঠনিক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ উচ্চারিত হলেও এর প্রভাব সমাজ বা উচ্চতর পর্যায়ে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

এখন আলোচ্য ঘটনার দু-একটি শিরোনাম- ‘নিষ্ঠুরতার আগুনে প্রাণ গেল কিশোরীর’, ‘পুড়িয়ে মারা হলো কিশোরীকে’, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে কিশোরীকে হত্যা’ ইত্যাদি। ঘটনার বিবরণে যা প্রকাশ পেয়েছে তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। কিশোরীর নাম আজিজা আক্তার। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আজিজার বয়স ১৪ বছর। ঘটনা বৃহত্তর পরিবারকেন্দ্রিক; কিন্তু ঘটনার বর্বরতা সব মানবিক হিসাব-নিকাশ ভণ্ডুল করে দিয়েছে।

একটি মোবাইল ফোনই এ নৃশংস ঘটনার নেপথ্য কারণ। আজিজার চাচি বিউটি বেগমের মোবাইল ফোন চুরি গেলে তার জন্য আজিজাকে সন্দেহ করা হয়। হুমকি দেওয়া হয় ফোন ফিরিয়ে না দিলে তাকে পুড়িয়ে মারা হবে। আর ঠিক সে কাজটিই করা হয়েছে গত শুক্রবার (২৭ অক্টোবর, ২০১৭) রাতে। আজিজাকে চোখ-মুখ বেঁধে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বিশদ বিবরণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাংলাদেশি সমাজের সদস্যদের একাংশে, ব্যক্তিবিশেষে বর্বর নিষ্ঠুর মানসিকতার প্রকাশ। বিন্দুমাত্র মানবিকবোধ এবং যুক্তিবাদী চেতনার অভাব। আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা, হঠকারী নিষ্ঠুরতার বড় বেশি প্রভাব চেতনায়। এ মানসিকতাকে মেলানো যায় না ১৯৭১-এর পরিস্ম্ফুট, ব্যাপকভিত্তিক চেতনার সঙ্গে।

তিন. কেন বাঙালি মানস এতটা নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিচ্ছে! আগেই বলা হয়েছে, এ ‘স্যাডিস্ট’ চেতনার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে সমাজের সর্বস্তরে, বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে এবং তা স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে। অর্থাৎ সমাজের একটি সার্বিক দূষণের চিত্রই বিভিন্ন ঘটনায় প্রকাশ পাচ্ছে। বিত্তবান পরিবারের বখাটে সন্তান, খুদে ব্যবসায়ী, প্রতাপশালী রাজনৈতিক নেতা-পাতিনেতা, সচ্ছল বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের দাপুটে গৃহিণী- কেউই বাদ যাচ্ছেন না এ দূষণ প্রভাব থেকে। সমাজের পক্ষে বড় অশুভ সংকেত হলো, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বিশেষ কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়াও নয়, এর রয়েছে একটি সার্বিক অপরাধমূলক চরিত্র, এককথায় অপরাধ মানসিকতা, যে মানসিকতা নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করে এবং যে কারণে বিচার ভাবনা বা যুক্তিতর্কের কোনো ধার না ধেরে নিজের হাতেই বিচার তুলে নেয় কল্পিত অপরাধীর শাস্তি বিধানে। আজিজাকে পুড়িয়ে মারা তেমন একটি ঘটনা।

তুচ্ছ একটি মোবাইল হারানো বিউটি বেগমের একবারও মনে হয়নি, তার অনুমান ভুল হতে পারে। মনে হয়নি, একটি মোবাইল কি একটি প্রাণের চেয়েও মূল্যবান যে, নিছক সন্দেহের বশে সেই মোবাইলের জন্য একটি দুর্মূল্য প্রাণ বিনাশ করতে হবে। যারা এ কাজে অংশ নিয়েছে তাদের একবারও মনে হয়নি, হতেও তো পারে মেয়েটি নির্দোষ। তাকে চরম যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু উপহার দেওয়া অন্যায়। ঘটনাটি বরং আইনের হাতে তুলে দিই। তারাই সাব্যস্ত করুক, কে চোর বা কে অপরাধী।

না, বিউটি বেগম কিংবা তার নিয়োজিত ওই ঘাতকরা (হতেও পারে তারা বৃহত্তর পরিবারের স্বজন বা ভাড়াটে ঘাতক) কারও মনে এ কথাগুলো উঠে আসেনি। ক্রোধের উন্মাদনায় তারা সব বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিল। তাই এমন কথাও ভেবে দেখেনি যে, এ হত্যাকাণ্ডের জের কতদূর গড়াতে পারে, তাদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

যে কোনো যুক্তবাদী মানুষেরই মনে হতে পারে, বিশেষ করে যন্ত্রণাকাতর আজিজার শেষ মুহূর্তের কথাগুলো- ‘খোদার কসম আব্বা, আমি কাকির মোবাইল নিছি না।’ মিথ্যা নয়। মৃত্যুর পূর্বক্ষণে সাধারণত মানুষ মিথ্যা বলে না। মনস্তত্ত্ববিদরা এমন ধারণাই দিয়ে থাকেন। আর মানবচরিত্রও এমন কথার পক্ষে সমর্থন জোগায়। মোবাইল হারিয়ে উন্মাদ বিউটি বেগমের মনে এসব যুক্তিতর্ক বোধ হয় প্রভাব ফেলেনি ঘটনার পরও।

আরও অনেক ঘটনার মতো আজিজা হত্যার বর্বর ঘটনা আমাদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেয়। প্রথমত, সমাজ ও ব্যক্তিমানস কতটা দূষিত, কতটা অপরাধপ্রবণ হলে একটি মোবাইলের জন্য নিকটাত্মীয় এক কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে মারা চলে। এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে কিছু কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এ ঘটনার সুবিচারের পক্ষে প্রাথমিক কর্তৃপক্ষ পুলিশ প্রশাসন। তাদের তদন্ত ও অভিযোগপত্রের ওপর অনেকটা নির্ভর করে বিচার ও শাস্তির রায়।

এ ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি শর্ষের মধ্যে ভূত। অপরাধী যদি প্রভাবশালী, প্রতাপশালী, বিত্তবান হয়, তাহলে অনেক সমস্যা। তাছাড়া নানা সূত্রের যোগাযোগের প্রভাবও সত্যের ওপর বিরৃপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে তেমন ইঙ্গিত-আভাস যেন পাওয়া যায় পুলিশ কর্তৃপক্ষের এমন বয়ানে যে মেয়েটি পুড়ে মারা গেছে, কিন্তু কীভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি … তদন্ত চলছেই। (২৯.১০.২০১৭)।

একই দিনের অন্য একটি দৈনিকে নিজস্ব প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে অন্য এক কাহিনী। অর্থাৎ আজিজার কেরোসিন কিনতে যাওয়া ইত্যাদি। অথচ আজিজার মা বলছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার কথা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, এ পরিবারটি যথেষ্ট সচ্ছল নয়। আর সে সূত্রেই কি ‘বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদবে?’ শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি ঘটবে এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড বা নির্মম মৃত্যুর, তা আমরা এখনও জানি না- জানা যাবে তদন্ত শেষে, বিচার শেষে।

ইতিমধ্যেই আজিজার মৃত্যুর কারণ নিয়ে যেটুকু ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে, তাতেই নিরপেক্ষ ব্যক্তিমাত্রই মনে দুশ্চিন্তা দেখা দেবে যে, এ ঘটনাও কি আত্মহত্যার রৃপ নিতে পারে? অর্থাৎ আত্মহত্যা বলে ঘটনটিকে চালিয়ে দেওয়া হতে পারে কি? আত্মহত্যা হলে আজিজার শেষ জবানবন্দিটা ভিন্নরকম হতো। এমন সব ঘটনার কারণেই বোধ হয় এ ঘটনা প্রসঙ্গে সুলতানা কামাল বলেছেন- ‘মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিশ্বাস পুরোটাই চলে গেছে।’

বিশদ বিবরণে না গিয়ে শুধু এটুকুই বলি : বিত্ত ও প্রভাব না থাকলে বাংলাদেশি সমাজে ন্যায়বিচার পাওয়া খুব সহজ নয়। আর সমাজ যে মাত্রায় দূষিত তার সঙ্গে কিছুটা হলেও তাল মিলিয়ে চলে প্রশাসন। কুমিল্লা কলেজের মেধাবী ছাত্রী তনু হত্যার পরিণাম এবং এ জাতীয় একাধিক ঘটনা তেমন আভাস-ইঙ্গিতই দেয়। তাই সব বিচারে সমাজ শোধনের বিষয়টিই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। শক্তিমান, ঐক্যবদ্ধ শুদ্ধ সমাজই রাজনীতি, প্রশাসন ও শাসকশ্রেণিতে ন্যায়নীতির সুপ্রভাব ফেলতে পারে।

সমাজ দূষণের কথা বারবার বলছি এ কারণে যে, প্রতিদিন এ সমাজে একের পর এক অঘটন ঘটে চলেছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ক্রমেই দূরে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সমাজের শুদ্ধ অংশ যদি এখনও রুখে না দাঁড়ায়, তাহলে গোটা সমাজ ব্যবস্থার শুদ্ধতারই বিনাশ ঘটবে। এ উপলক্ষে আমাদের শেষ কথা এবং দাবি, আজিজার মর্মস্পর্শী করুণ মৃত্যুর ঘটনা যেন সুবিচারের দেখা পায়, অপরাধী যেন শাস্তি পায়। এ কথা বলার কারণ, ঘটনাদৃষ্টে এটা হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়। তবে সবটাই নির্ভর করছে সঠিক তদন্ত ও অভিযোগপত্রের ওপর।

এ ঘটনার তদন্তপ্রবাহ যেদিকেই যাক, আমাদের প্রত্যাশা- এ বর্বরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিবেকবান মানুষ একাট্টা হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে বলিষ্ঠ সততায় প্রতিবাদী ভূমিকা গ্রহণ করবেন, যাতে অপরাধীর শাস্তির পক্ষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।

শুধু আজিজা হত্যাকাণ্ডই নয়, আজকের (২৯.১০.২০১৭) একটি দৈনিকেও খবর : ‘এবার চকবাজারে কিশোরকে চাকু মেরে হত্যা’। বিষয় তুচ্ছ। সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্বের জের। বছর দুয়েক থেকে নানা ঘটনায় লক্ষ্য করা গেছে যে, মাস্তানি, দুর্বৃত্তপনা, ছিনতাই, এমনকি সমবয়সী বা সহপাঠী হত্যায়ও হাত পাকাতে শুরু করেছে কিশোরদের একাংশ। গত ২ বছর থেকে এমন ঘটনার অনেক বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে সংবাদপত্রগুলোতে।

সময় থাকতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো সমাজের নিয়ন্ত্রণই হয়তো একসময় দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাবে। তখন সেই সমাজকে শুদ্ধ করে তোলা, অপরাধমুক্ত করে তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। তাই শাসন কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলতে হয়- সময় থাকতে ব্যবস্থা নিন। সে ব্যবস্থা হলো সঠিক প্রতিকার ও প্রতিরোধ এ দুই খাতে। তা না হলে উল্লিখিত নির্মমতা-নিষ্ঠুরতার অবসান ঘটবে না। দূষণের ভারে ও ব্যাপকতায় একসময় সমাজে পচন ধরবে।

আলোচ্য ঘটনার সব শেষ সংবাদে প্রকাশ- এখন ‘পুলিশ বলছে, হত্যার নেপথ্যে চাচি-চাচির অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলার কারণে আজিজাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।’ একই সংবাদ অন্যান্য দৈনিকেও। তমুজা বেগমের সাক্ষ্যে এ তথ্য উঠে এসেছে। দেখা যাক, তদন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে। এ বর্বরতার চরম শাস্তি কাম্য। দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও।

ভাষাসংগ্রামী, রবীন্দ্র গবেষক

Comments

comments