শাটল ট্রেনে সংঘর্ষ : চবি ছাত্রলীগের ৩ কর্মী গ্রেফতার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের বগিতে এখনো রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের নাম। আগের মতো আসনও থাকে সংরক্ষিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন ছাত্রলীগকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জানান, ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের পর জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রলীগের ‘সিক্সটি নাইন’ ও ‘বিজয়’ গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে পুলিশসহ তিনজন আহত হন।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ আহত হয়েছে বলেই আজ এ গ্রেফতারের খবর পেলাম। আমরা নিয়মিত হেনস্তার শিকার হলেও দেখার কেউ নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে উঠে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বগিতেই বিভিন্ন বগিভিত্তক সংগঠনের সমর্থকদের জন্য আসন সংরক্ষিত রয়েছে। অধিকাংশ বগিতে একাধিক পক্ষের সমর্থকদের বগির আসন দখলে রাখতে দেখা গেছে। শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে এ কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় শহর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শাটল ট্রেনের সঙ্গে বগি যুক্ত থাকে পাঁচ থেকে সাতটি। প্রতিটি বগিতে আসন থাকে ১২০টি। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি বগিতে বিভিন্ন বগি সংগঠনের দখলে থাকে অনন্ত ৪৮টি করে আসন। শিক্ষার্থীরা জানান, এপিটাফ, একাকার, সিক্সটি নাইন, উল্কা, ভিএক্স, বিজয়, কনকর্ড, ককপিট, খাইট্যা খা, সাম্পান ও রেড সিগন্যাল নামের বিভিন্ন বগি সংগঠনের সদস্যরা এখনো শাটল ট্রেনে তাঁদের দখল বজায় রেখেছেন। এসব সংগঠনের সদস্যরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বগিভিত্তিক সংগঠনের সদস্যদের হাতে তাঁদের নানাভাবে হেনস্তা হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়েও তাঁরা প্রতিকার পাননি। আর এ কারণে বগির রাজনীতি ক্যাম্পাসে আরও উৎসাহিত হচ্ছে।

 

Comments

comments