আবারো খুনের রাজ্যে পরিণত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ!

আবারো খুনের রাজ্যে পরিণত হচ্ছে প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলা। রাজনৈতিক, আধিপত্য বিস্তার, পারিবারিক কলহসহ তুচ্ছ কারনে এখন হরহামেশাই ঘটছে খুন, হত্যা। আর নিঁখোজ হলেই মিলছে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় লাশ। শুধু তাই নয়, সদ্য ভূমিষ্ট নবজাতকও রেহাই পাচ্ছে না নরপশুদের কবল থেকে। আর এতে করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় আইনশৃংখলার অবনতি হচ্ছে নাকি উন্নতি, তা ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে। জানাগেছে, গত অক্টোবর মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১২ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে সংঘটিত ফতুল্লা মডেল থানাধীন কাশীপুর ইউনিয়নের জোড়া খুন।এছাড়াও ফতুল্লা ও আড়াইহাজার থানাধীন এলাকায় সবচেয়ে বেশী খুনের ঘটনা ঘটেছে। তন্মধ্যে নিঁখোজের পর শিশুসহ যুবকের সবচেয়ে বেশী লাশ উদ্ধার হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলায়। উদ্ধারকৃত প্রত্যেকটি লাশের গায়েই আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় যা প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ড হিসেবেই ধারনা করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

সদর উপজেলা
গত ২১ অক্টোবর রাতে ধর্মগঞ্জ এলাকায় আমজাদ ঢালীর ভাড়াটিয়া মাসুদ খান (৩৩) ও তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর খান (২৪) মিলে ফরিদপুর জেলার চর ভদ্রাসন থানার ডাঙ্গী গ্রামের শেখ মান্নানের মেয়ে মঞ্জুরী বেগমকে (২৩) পিটিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় মঞ্জুরী বেগমের বড় ভাই শেখ ফরিদ দুই জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ১২ অক্টোবর রাতে মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ খন্দকারের নির্দেশে কাশীপুরের হোসাইনি নগর এলাকাতে একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে মাল্টিপারপাস ও মাদক ব্যবসায়ী তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) এবং পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দুইজনকে হত্যা করে। গত ৭ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মাস্ট্যান্ড এলাকার ডিএনডি খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

আড়াইহাজার উপজেলা
গত ৩০ অক্টোবর আড়াইহাজার উপজেলায় পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। নিহত সোনা মিয়া (৭৫) ওই এলাকার মৃত সাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। আটককৃত ভাতিজা আমিনুল মিয়া (৩০) নিহত সোনা মিয়ার ছোট ভাই এমদাদুল হকের ছেলে। গত ২১ অক্টোবর আড়াইহাজার উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে জামাতার হাতে খুন হয়েছেন শ্বশুর। উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের হাজীরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. জাফর মিয়া (৬০) ওই এলাকার প্রয়াত সুরুজ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জামাই মুসা মিয়াকে (৩০) স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করেছে পুলিশ।একইদিন, আড়াইহাজার উপজেলায় সাগর মিয়া (২৫) নামে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। পূর্বের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরে অন্য শ্রমিকের ছুরিকাঘাতে তিনি মারা যান বলে জানান পুলিশ। উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের মানিকপুর থেকে চালকচর গ্রামের রাস্তায় ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুমন (২৫) নামে ওই শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত সাগর মিয়া ফেনী জেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত কাজল মিয়ার ছেলে। আটককৃত সুমন মিয়া নোয়াখালী জেলার কবির হাট গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। দুইজনই রাস্তা নির্মাণ শ্রমিক।গত ৬ অক্টোবর নিখোঁজের দুইদিন পর হোসেন আলী (৩০) নামের যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হোসেন গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি গ্রামের মৃত জমির আলী ছেলে। বস্ত্রহীন অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। কিভাবে তাকে খুন করা হয়েছে তদন্ত করছে পুলিশ।

রূপগঞ্জ উপজেলা
গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে রূপগঞ্জে অজ্ঞাতনামা যুবকের (৩২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার কামশাইর বিল থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় এ লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটির পড়নে সাদা চেক লুঙ্গি ও গায়ে ছাই কালারের হাফহাতা টিশার্ট ছিল। গত ২৬ অক্টোবর হাটাবো থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রূপগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর শাহেদ মিয়া নামে তিন বছরের শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাম্মণগাঁও এলাকার একটি পুকুর থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।গত ২৪ অক্টোবর রূপগঞ্জে তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে মাকসুদা বেগম (২২) নামে স্পিনিং মিলের তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তরুণীর ননদ পিয়ারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।মাকসুদা বেগম কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপজেলার ভাটিভরাটিয়া এলাকার গোলাপ মিয়ার মেয়ে। গত ৬ মাস আগে ময়মনসিংহ জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাড়াউল এলাকার জানু মিয়ার ছেলে রাব্বানির সঙ্গে মাকসুদা বেগমের বিয়ে হয়। গত ৮ অক্টোবর রূপগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার ২মাস পর মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় মনির হোসেন (২৫) নামে যুবলীগ নেতার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব খালপাড় এলাকা থেকে ওই লাশটি উদ্ধার করা হয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মনির হোসেনকে জবাই করে লাশ সেখানে পুঁতে রাখে স্বীকার করেছে হত্যাকান্ডে জড়িত একজন ঘাতক। তার দেওয়া তথ্য মতেই লাশটি উদ্ধার করা হয়। মনির হোসেন বিরাব খালপাড়া এলাকার সেরাজ উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া তিনি ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ডান্ডিবার্তা

Comments

comments