মানুষের প্রতি এ কেমন বর্বরতা!

খুলনার রূপসায় পাওনা টাকা দিতে না পারায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহতের বোন বলেন, ‘প্রায় ১০-১২ জনের বেশি লোক রাস্তায় এসে দাড়িয়ে ছিলো। যাওয়ার সময় আমার ভাইয়ের হাতটা টানতে টানতে ধরে নিয়ে গেলো।’ স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য নেয়ামুল করিম নামে এক ব্যক্তিকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেয় একই এলাকার হান্নান শেখ ও তার সহযোগীরা। পরে তাকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফাতার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্বজন ও এলাকবাসী।

নিহতের মা বলেন, ‘আমার ছেলে বলে মা আমাকে এত মেরেছে আমি বাঁচবো না মরে যাব। আমি বলছি আব্বা আল্লাহকে বলো তুমি বাঁচবা। আমার ছেলে আবার বলে না মা আমি বাঁচবো না। আমাকে এত মেরেছে।’

এলাকাবাসী বলেন, ‘থানের ভেতরে লোহা ঢুকিয়ে দিয়েছে। মারার জন্য একদম পিঁপড়ের চাকের মধ্যে বসিয়ে রেখেছে। আজকে এ মরছে দুদিন পরে আরো মানুষ মারা যাবে। এর বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত।’

নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. এটি এম এম মোর্শেদ । খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দোষীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত হান্নান শেখ এলাকায় জমি কেনাবেচা ব্যবসায় জড়িত। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন নিহত নেয়ামুল করিম। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

সময় সংবাদ

Comments

comments