বিএনপির সাবেক এমপি ওহাবের ৮ বছর কারাদণ্ড

যশোর আদালত প্রাঙ্গণে মো. আব্দুল ওহাব (মাঝখানে)। যশোর, ৩০ অক্টোবর। ছবি: প্রথম আলো
দুর্নীতির মামলায় ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওহাবকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত তাঁকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও নয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় যশোরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নিতাইচন্দ্র সাহা আজ সোমবার এ দণ্ডাদেশ দেন।

আদালত ওহাবের অবৈধ উপায়ে অর্জিত ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকা ৩২ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ৯৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সে তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালে আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে দুদক এই মামলা করেছিল।

আজ রায় ঘোষণার সময় আব্দুল ওহাব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় কাল মঙ্গলবার আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। আজ সকালে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান দিপু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা মামলায় আব্দুল ওহাবকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। মিথ্যা মামলায় সাজার প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার (ভোর ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত) শৈলকুপা উপজেলায় হরতাল আহ্বান করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

আব্দুল ওহাব ঝিনাইদহ-১ আসনের দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন। এখন তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি।

দুদকের কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুদকের ২৬(২) ধারায় আদালত আব্দুল ওহাবকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে অবৈধ উপায়ে অর্জিত ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকা ৩২ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। উভয় দণ্ডাদেশ আলাদা আলাদাভাবে চলবে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ২৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় দুর্নীতির মামলা দায়ের করেন দুদকের সমন্বিত কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াজেদ আলী গাজী। এই মামলায় ২০০৯ সালের ৪ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. নাছির উদ্দিন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল ওহাব তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ৮৩ লাখ ১২ হাজার ৩২৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা যাচাই করে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭৭৬ টাকার সম্পদ পেয়েছেন। আব্দুল ওহাব নিজে, তাঁর ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীর নামে অসাধু উপায়ে ক্রয়সূত্রে অর্জিত ৯০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫২ টাকা ৭০ পয়সা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোপন করেছেন।

অন্যদিকে, ওহাবের বিরুদ্ধে নিজের নামে, মায়ের নামে, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে এবং বেনামে ক্রয়সূত্রে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকা ৩২ পয়সা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এরপর আব্দুল ওহাব হাইকোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। আদালত গত ২১ আগস্ট মামলার বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন। আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী ৩ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

প্রথমআলো

Comments

comments