শজিমেকে ফের ইন্টার্নদের হাতে প্রহৃত রোগীর স্বজন

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) আবারো ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে মারপিটের শিকার হয়েছেন এক রোগীর ছেলে ও নাতি। আহত অবস্থায় তারা শজিমেকে ভর্তি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ৯ টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

মারপিটে আহতরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানতৈল গ্রামের মৃত বজলুর রশিদের ছেলে গাজিউর রহমান (৪৫) ও গাজিউর রহমানের ছেলে মো. শান্ত (২৫)।

ছিলিমপুর টাউন ফাঁড়ি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (টিএসআই) আশুতোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) মৃত বজলুর রশিদের স্ত্রী মাহেলা বেওয়া (৭৫) শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শজিমেকে ভর্তি হয়ে মেডিসিন বিভাগের ১০ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডের ১ নম্বর ইউনিটের ৫নং বেডে চিকিৎসা নিতে থাকেন।

রোগীর ছেলে গাজিউর রহমান তার মাকে ভালভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গাজিউর ও তার ছেলে মো. শান্তর ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলে রোগীর ছেলে ও নাতিকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করেন।

রাত ১১ টার দিকে জেলার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বাংলানিউজকে জানান, শজিমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে রোগীর ছেলে ও নাতিকে মারপিট করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শজিমেক) উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। ঘটনার পরপরই (রাত সোয়া ১১ টায়) গণমাধ্যমকর্মীরা শজিমেকে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদের বাধা দেওয়া হয়।

এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কোনাগাতি গ্রামের আলাউদ্দিন সরকার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তার ছেলে আব্দুর রউফ তাকে নিয়ে শজিমেকে আসেন। তাকে হাসপাতালের মিডিসিন বিভাগের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এই রোগীকে হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক দেখতে যান।

এসময় রোগীর ছেলে আব্দুর রউফ ওই চিকিৎসকে লাঞ্ছিত করেন বলে সহকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক।

পরে চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুর রউফকে ব্যাপক মারপিট করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে বোন ও স্ত্রীর বড় বোনকেও মারধর করেন চিকিৎসকরা। শেষ অবধি এ ঘটনার অনেক দূর জল গড়ায়।

Comments

comments