সুজাতা থেকে সুষমা, ঢাকা-দিল্লির একদশকের অর্জন ও নতুন সমীকরণ

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: ভারতের তৎকালীন শীর্ষ কূটনীতিক সুজাতা সিংয়ের ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা সফরের কথা অন্তত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিদের কোনোদিন ভুলে যাবার কথা নয়, এমন কি ক্ষমতা প্রেমিকরাও নয়। কেননা, নানা কারণেই ভারতীয় ওই কূটনীতিকের সফরটি ছিল বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত। এ বিষয়ে আমাদের দেশের সবমহল ভালভাবেই ওয়াকিবহাল বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর সুজাতা ঢাকা আসার আগের দিন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ইন্দ্রানী বাগচি লিখেন, ‘ভারত তার শীর্ষ কূটনীতিক, পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংকে পাঠাচ্ছে ঢাকার রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে, যেখানে দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল এরশাদের জাতীয় পার্টি আসন্ন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। দিল্লির কূটনীতিকেরা মনে করেন, সুজাতা সিংকে তার পূর্বসূরির চেয়ে অনেক বেশি ঝঞ্ঝাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। (টাইমস অব ইন্ডিয়া, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩)

সাউথ ব্লকের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে এটাই ছিল সুজাতা সিংয়ের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ সফর। ওই সময় সুজাতা একটি বিশেষ জোট বা দলের পক্ষে যে ধরনের নগ্ন ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তা কূটনীতির ইতিহাসে বিরল ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। সুজাতার ভূমিকা যে ‘বিতর্কিত’ ছিল এ বিষয়ে সেসময়কার নির্বাচন বয়কটকারী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের ভাষ্যই অকাট্য স্বাক্ষ্য বহন করে।

একজন বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করার মতো মানসিক অবস্থাও তখন এরশাদের ছিলনা। কেননা, এর আগে ২২ ঘণ্টা অজ্ঞাতবাসে ছিলেন। সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেই এরশাদ ঘোষণা দেন, ‘ওনারা বলেছেন, নির্বাচন করুন। আমি নির্বাচন না করলে নাকি জামায়াত-শিবিরের মতো মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসবে। জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় আসুক তা আমিও চাই না। আর ওরা এলে সে জন্য সরকারই দায়ী।’

এরপর যা হবার তাই হয়েছে। এরশাদকে অনেকটাই গৃহবন্দী করেই তার প্রিয়তমা পত্মী রওশনকে সামনে এনে ৫ জানুয়ারি একটি একতরফা নির্বাচন করা হলো।যাতে ১৫৩ জন এমপিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন। এরপর ক্ষমতাসীন জোট সরকার গঠন করলো। কোনো ধরনের বিলম্ব না করে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানালো নয়াদিল্লি। যদিও ওই সময় বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রনায়কই এ থেকে বিরত ছিলেন। ফলে সুজাতার সেই সফরের বিতর্কিত অধ্যায় কোনো দিন ভারত ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।

২০১৩ থেকে ২০১৭ প্রায় চার বছর গত হয়েছে, নদীর জল ঘোলা হয়ে অনেক গড়িয়েছে। ভারতের ক্ষমতার মসনদের পালা বদল হয়েছে। ভারতের ইতিহাসে ওই সময়ের ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবি পর হয়েছেন খুবই নিম্নমানের বিরোধী দল, আর বিরোধীরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বসেছেন ক্ষমতার মসনদে। আর সেই সুজাতার বিদায়ও হয়েছে খুবই করুণভাবে। সব ধর্মেই ‘ন্যাচারাল পানিসমেন্ট’ বলে এক কথা আছে, সেটা যেন সোনিয়া-সুজাতার ক্ষেত্রে খুবই বাস্তব।

সঙ্গত কারণে সেই সময় থেকে বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে যে ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে তা বর্তমানে রীতিমত বিস্ফোরণমুখ হয়েছে। জানিনা, গত এক দশকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির রীতিনীতি জলাঞ্জলি দিয়ে একতরফাভাবে বিশেষ জোট বা গোষ্ঠীর পক্ষ নিয়ে ভারত বাংলাদেশ থেকে কি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।তবে দু’দেশের দলবাজ বুদ্ধিজীবী ও কূটনীতিক ছাড়া অন্য সবমহল দেরিতে হলেও বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, ভারত দৃশ্যত যা অর্জন করেছে তার চেয়েও বহুগুণ বেশি হারিয়েছে। যা কোনোদিন আগের অবস্থান ফিরে পাবে কিনা তাতে খুবই সন্দেহ রয়েছে। ঢাকার অর্জনের ক্ষেত্রেও বলা যায়, গণতন্ত্রের চর্চাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ ছাড়া ভারতের কাছে থেকে বড় কিছু অর্জন করতে পেরেছে বলে জোর দিয়ে বলার মতো সাহস কারো আছে বলে মনে হয় না।

আজ ভারতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা ক্ষমতাসীনরাও ঠিকই অনুভব করতে সক্ষম হয়েছেন বলে অনুমিত, কিন্তু তাদের সেই উপলব্ধিটা করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে,এরই মধ্যে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। তারা যে সেটা সত্যিকার অর্থে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন তার সাক্ষ্য বহন করে সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ভাষ্যই।

এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সেই প্রসঙ্গ টানেন। এছাড়া একটা ধারণা প্রচলিত আছে,বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।একতরফা সে নির্বাচনে ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়েও বাংলাদেশের ভেতরে রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।

আওয়ামী লীগ বিরোধীরা মনে করেন, একদশকে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপকভাবে ভারতের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে।এবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যখন দু’দিনের সফরে ঢাকা আসলেন,তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে এনিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে।এ সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক ছাড়াও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি’র একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করেছেন।সে বৈঠক শেষে বিএনপি’র তরফ থেকে জানানো হয় যে- ভারত বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দেখতে চায়।এছাড়াও সুষমার অভয়বেও একতরফা সমর্থনের নীতি পরিহারের বিষয়টি দৃশ্যত হয়েছে বলেই ব্যাপক আলোচনা রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে।

কিন্তু দেশের বড় রাজনৈতিক দল- বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র কাছে ভারত আসলেই কতটা গুরুত্বপূর্ণ,এ প্রশ্নে উভয় দলের নেতারাই ক্ষমতার পালা বদলে ভারতের ভূমিকাকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও বাস্তবে তারা দিল্লিরই সমর্থন চায়।

যেমনটি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ সম্প্রতি এক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন,সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অংশ হিসেবে ভারতের সাথেও ভালো সম্পর্ক আছে আওয়ামী লীগের।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলে ভারতের ভূমিকা নিয়ে যেসব আলোচনা আছে সেগুলোকে কিভাবে দেখে আওয়ামী লীগ? এমন প্রশ্নের মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনোই এটা মনে করে না। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। জনগণ যার পক্ষে থাকবে তারাই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারবে। জনসমর্থন যাদের নেই তারাই সবসময় বহির্বিশ্বের কাছে ধর্না দেয় এবং পরনির্ভরশীলতা দেখায়। আওয়ামী লীগ কখনো পরনির্ভরশীলতা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা মনে করে না।’

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা যে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই সেটি বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যেও। মাস ছয়েক আগে তিনি কয়েকবার মন্তব্য করেছিলেন যে, ২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির প্রতিজ্ঞা করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। আর বিএনপিরও পাল্টা জবাব- দেশের সবকিছু বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে আছে আওয়ামী লীগ।

এবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বৈঠকের সময় বিএনপি নেতারা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সে প্রতিনিধি দলে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।বিএনপির কাছে ভারত কতটা গুরুত্বপূর্ণ,এর জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে ভারতের সাথে যে সম্পর্ক সেটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। অতএব আমরা মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতি, উন্নয়ন, সামাজিক বিষয় সবকিছু ভারতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু আমি কোনভাবেই মানতে রাজী নই যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কোনো আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টা করে।’

বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের কাছে ভারতের গুরুত্ব কতটা সেটা খোলামেলাভাবে না বললেও বিশ্লেষকরা মনে করেন এটি নিয়ে এখন আর কোনো রাখঢাক নেই।বিগত কয়েক দশকে ঢাকার ক্ষমতার পালা বদলে যে দিল্লি অন্তরালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা কেউ স্বীকার না করলেও বাস্তব।এটাকে লুকোনোর কোনো সুযোগ নেই, এটা একেবারেই প্রকট বা প্রকাশিত।’

এদিক থেকে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে বড় রাজনৈতিক দলগুলো ততই ভারতের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবে। কারণ আঞ্চলিক রাজনীতির হিসেব-নিকেশ সেটিই ইঙ্গিত করছে বলে তাদের ধারণা।

তবে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ইস্যু কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতে দিল্লি খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে তা বলার সুযোগ নেই।কেননা,বর্তমানে দিল্লি চতুর্মুখি চাপের মুখে রয়েছে।বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্কটাও আর আগের মত দহরম-মহরম পর্যায়ে নেই। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যা,তিস্তা-ট্রানজিট, প্রধান বিচারপতি সিনহা এবং চীন-মায়ানমার সম্পর্ক ইস্যুতে দিল্লি-ঢাকার রঙ্গরসের সম্পর্কে ছেদ পড়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে ভারতবিরোধী মনোভাব বিস্ফোরণমুখ হয়ে উঠেছে সেটাও দিল্লির নজরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণভাবেই। কেননা, ইতিহাস বলে- বিশ্বের কোনো সাম্রাজ্যবাদই কোনো জনপদের সাধারণ জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশি দিন তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারেনি। রোমান থেকে ব্রিটিশ, ব্রিটিশ থেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা এখন নিজেদের লেজ গুটিয়ে নেয়ার অবস্থা। ফলে ভারত এখন ‘বাংলাদেশের জনগণের মনের ভাষাকেই’ বেশি গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অন্যথা অচিরেই যে আঞ্চলিক কর্তৃত্ব হারাতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সম্প্রতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবীণ অধ্যাপক ড. আজহার আলেও তার কলামে সুস্পষ্টভাবে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ও অর্জনের বিষয়টি ভালভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি তার বিশ্লেষণে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত এ দুটি দেশ ভৌগলিকভাবে অবিচ্ছিন্ন প্রতিবেশী। পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর – এ তিনদিকে আন্তর্জাতিক সীমারেখা থাকলেও, ভূখন্ড বিচ্ছিন্ন নয় এবং বিচ্ছিন্ন করা যাবেও না। এ কারণে, দুদেশের মাঝে সহজ যাতায়াত ও মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সুসম্পর্ক খুবই জরুরি এবং অত্যন্ত আবশ্যকীয়। প্রকৃত অর্থে এর কোনো বিকল্প নাই।একথা কারো অস্বীকার করারও কোনো উপায় নেই।

কিন্তু এদেশের ভুক্তভোগী জনগণ মনে করেন যে,ভারতের কিছু-কিছু নীতি সবকিছু ম্লান করে দিয়েছে। দু-দেশের মানুষকে একরকম মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।এমন বৈরীভাব সৃষ্টির পেছনে যেসব ভারতীয় নীতি দায়ী, তারমধ্যে দুটি বিষয় প্রধান বলে প্রতীয়মান হয়।

এক. ভারতের বিভিন্ন সংস্থাসমূহের একমুখো নীতি, একটি জোটের পক্ষে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে অপপ্রচার চালানো এবং উক্ত জোটকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য গুম, খুন ও অপহরণের ব্যাপারে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে সহায়তা দেওয়া।

দুই. আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোকে অনৈতিক সহায়তা দেওয়া এবং তাদেরকে ক্ষমতাসীন করার জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ন্যাক্কারজনক হস্তক্ষেপ করা।

উল্লেখ করা শ্রেয় যে, ভারতের বিভিন্ন সংস্থাসমূহ উপরোক্ত কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় এবং ভারত বাংলাদেশের রাজনীতি তথা গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করায় ভারতের উপর বাংলাদেশের জনগণের ক্ষোভ দিন দিন বেড়েই চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে ভারতকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতএব, এর জন্য আশু প্রয়োজন বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন সংস্থাসমূহের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা।

অতঃপর ভারতকে তার নিজের স্বার্থেই আওয়ামী জোট সরকারকে চাপ দিতে হবে তারা যাতে সব দলের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করে। ভারত যদি স্বার্থকতার সাথে বাংলাদেশের বিলুপ্ত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে, তাহলে দেশের আপমর জনসাধারণ অবশ্যই হৃদয়ের ক্ষত ভুলে তাকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণে রাখবে।

বিগত এক দশকে ভারত ছলে, বলে, কলে ও কৌশলে তাদের নানামুখী স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছে। বলা বাহুল্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী জোট সরকারও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতের বৈধ-অবৈধ সকল ধরনের দাবীর কাছে নতি স্বীকার করেছে। দৃশ্যতঃ প্রতীয়মান হয়েছে যে, ভারত অনেক কিছুই পেয়েছে – অনেক কিছুই অর্জন করেছে।

কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ভারত তেমন কিছু পায়নি বা অর্জনও করেনি। ভারতের নানামুখী প্রাপ্তির চেষ্টার ব্যর্থতার প্রমাণ বাংলাদেশের আপমর জনসাধারণের আকাশচুম্বী ভারত বিরোধী মনোভাব, ভারতের প্রতি বাংলাদেশের সকল মহলের ক্ষোভ এবং বিদ্বেষ। ভারত যত শীঘ্র বিষয়টি উপলদ্বি করবে, ততই তাদের মঙ্গল। অন্যথা প্রতিবেশি ভারতে আরো বেশি চড়া মূল্য দিতে হবে।এখন আমাদেরকে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে- দিল্লি কোন পথে হাঁটে।দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষেই অবস্থান নিবে বলে জনগণের বিশ্বাস।

Comments

comments