জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে মাদ্রাসা পাঠ্যবই থেকে জিহাদ অধ্যায় বাদ দিচ্ছে সরকার!

(ফাইল ফটো)

ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদাত জিহাদকে মাদ্রাসা পাঠ্যবই থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। আর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের নতুন পাঠ্যবইয়ে জিহাদ শিক্ষা বিষয়ক কোনও অধ্যায় থাকবে না। আলিয়া বোর্ডের পাঠ্যবই থেকে জিহাদ সম্পর্কিত সব অধ্যায় বাদ দিয়ে ২০১৮ সালে এসব বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে খবরে প্রকাশ।

নাস্তিক্যবাদী বামপন্থী বুদ্ধিজীবিদের ফর্মুলা অনুযায়ী দীর্ঘ পরিকল্পনার পর পাঠ্যবই থেকে জিহাদ অধ্যায় বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। একটি সূত্র জানায়— জঙ্গি প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটির ধারণা, মাদ্রাসার পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গি কাজে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুব্ধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল মাদ্রাসা বোর্ডে একটি চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিঠিতে মাদ্রাসার পাঠ্যবই থেকে জিহাদ শিক্ষা বিষয়ক সব অধ্যায় সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কোরআন, হাদিস, সংবিধান ও জাতীয় বিষয়ে সাংঘর্ষিক সব বিষয় ও নিবন্ধ বাদ দিতে বলা হয়েছে।

অবশ্য জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশনা বিভাগের নিয়ন্ত্রক মো. শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ ধরনের অভিযোগ করেছেন।

যদিও হলি আর্টিজান থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলায় ইংরেজী মাধ্যম স্কুল, বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ রয়েছে। তারপরও সেসব প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমের দিকে নজর না দিয়ে মাদ্রাসার দিকে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে হেফাজত-এ-ইসলামের সাধারণ সম্পাদক জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যবই পুনঃমূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে আমি এর কোনও প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করি না। জিহাদ মানেই জঙ্গি কার্যক্রম নয়। তাছাড়া মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত নয়।’

 

Comments

comments