কক্সবাজার পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারেই অপহরণ!

কক্সবাজারে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১৭ লাখ ‍টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সেনাসদস্যদের হাতে পুলিশ আটক হওয়ার ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে বিব্রত পুলিশ কর্মকর্তারা।

তবে কক্সবাজার পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে ও জ্ঞাতসারে গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা এই অপকর্ম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে আরো একটি কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি কুসুম দেওয়ান বাংলানিউজকে বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তাতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি আমরা সিরিয়াসলি নিয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

‘কক্সবাজার পুলিশের শীর্ষ কোন কর্মকর্তার নির্দেশে অথবা জ্ঞাতসারে ঘটনা হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ‍পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার কোন প্রয়াস কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। ’

কুসুম দেওয়ান জানান, পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আফরুজুল হক টুটুলকে।

গোয়েন্দা ইউনিটের অপকর্ম নিয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সকলের মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না।

পরিদর্শক পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে সাতজন পুলিশ সদস্য ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তাদের মধ্যে ‍চারজনই কক্সবাজারের বর্তমান পুলিশ সুপার ড.একেএম ইকবাল হোসেনের মেয়াদকালের মধ্যে সেখানে যোগ দিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে ইকবাল কক্সবাজারের এসপি হিসেবে যোগ দেন।

কক্সবাজারের গোয়েন্দা ইউনিটে পরিদর্শক কিংবা উপ-পরিদর্শক হিসেবে যোগ দিতে বড় অংকের টাকা দিতে হয়, এমন আলোচনা আছে পুলিশ বিভাগে।

আলোচনা আছে, টাকার বিনিময়ে পোস্টিং পাওয়া পুলিশ সদস্যরা কক্সবাজারে এসেই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অনৈতিক কাজে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় সহজ হওয়ায় এসব পুলিশ সদস্য প্রথমেই ছুটে তাদের পেছনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুধুমাত্র ইয়াবা খাত থেকেই প্রতিমাসে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করেন।

‘গত এক বছরে গোয়েন্দা ইউনিট একেবারে নিচে নেমে গেছে। ডিবির ১-১৫ জন আছেন যারা শুধু ইয়াবা চোরাচালানিদের আটক-গ্রেফতারের নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগ আছে। ’ বলেন একজন পরিদর্শক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ডিবির মূল ওসি যিনি, মনিরুজ্জামান, তার নির্দেশে এবং নেতৃত্বেই মূলত সব ধরনের অপকর্ম হচ্ছে। এসপি অফিস তৃতীয় তলায় আর ডিবি অফিস নিচতলায়। ডিবি অফিসে কি হচ্ছে সেটা কী সিনিয়র অফিসাররা জানেন না ? অবশ্যই জানেন এবং তাদের জ্ঞাতসারেই হয়েছে।

‘মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ২০ ঘণ্টা ডিবির টিম টেকনাফে আছে। নিশ্চয় তারা অভিযানের কথা বলে বের হয়েছে। এই ২০ ঘণ্টা তাদের কাজ কি, তারা কোথায় আছেন, সেই ব্যাপারে কি সিনিয়র অফিসাররা অবহিত ছিলেন না ? সিনিয়র অফিসারদের অবহিত করা ছাড়া কি ২০ ঘণ্টা একটি টিম বাইরে থাকতে পারে ?’

এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের মোবাইলে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি কুসুম দেওয়ান বাংলানিউজকে বলেন, তদন্ত কমিটি সব বিষয়ই খতিয়ে দেখবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যার বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটা নেয়া হবে।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪

Comments

comments