এবার বেঁকে বসেছে অস্ট্রেলিয়ানরা

চার দিনের টেস্ট খেলার ব্যপারে নিজেদের অনাগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার।

চলতি মাসে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক বোর্ড সভায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বহুল প্রতিক্ষিত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। বর্তমানে টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটের আকর্ষণে পাঁচদিনের টেস্ট অনেকটাই তার মর্যাদা হারাতে বসেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের অংশ হিসেবেই শীর্ষ নয়টি দেশের মধ্যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ প্রবর্তনের পরিকল্পনা অনেক আগেই করেছিল আইসিসি।

একইসাথে টেস্ট ফরম্যাটকে আরো আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে পাঁচদিনের পরিবর্তে চারদিনের প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে ট্রায়াল ভিত্তিতে চার দিনের একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু স্মিথ ও ওয়ার্নার এই ধরনের ফরম্যাটের বিরোধিতা করে বলেছেন এর ফলে ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনের টেস্টের মর্যাদাহানি হবে।

এক সাক্ষাতকারে স্মিথ বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি পাঁচদিনের টেস্ট খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সে কারণেই আমি চাই এটা পাঁচ দিনেই সীমাবদ্ধ থাকুক। ঠিক যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে, এই ধরনের টেস্ট ম্যাচের একটি আলাদা ঐতিহ্য আছে। আমি মনে করি টেস্ট যখন পঞ্চম দিনে গড়ায় তখন তার ভিন্ন একটি আমেজ তৈরী হয়। এটাই টেস্ট ম্যাচের বৈশিষ্ট্য।’
অন্যদিকে ওয়ার্নার বলেছেন, ‘চারদিনের টেস্টের প্রতি আমার কোনো ধরনের আগ্রহ নেই। টেস্ট ম্যাচে অনেক ধরনের বৈচিত্র আছে। কোনো কোনো ম্যাচ মাত্র তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়। আবহাওয়াও এখানে একটি প্রভাব বিস্তার করে। দীর্ঘ সময়ে ম্যাচকে ধরে রাখার মধ্যে অনেক কিছুই জড়িত থাকে। কার্যত যে দল বেশি ফিট তারাই টেস্ট ম্যাচে টিকে থাকে, এর মধ্যে সত্যিকার অর্থেই আলাদা একটি আমেজ আছে।’

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জেমস সাদারল্যান্ড ট্রায়াল ভিত্তিতে চার দিনের টেস্ট আয়োজনের পক্ষে মত দিলেও একইসাথে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন খুব দ্রুত অস্ট্রেলিয়া এই ধরনের ক্রিকেটে অংশ নিবে না। এখনো এ ব্যপারে আরো কিছু জানার প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে আগামী দুই বছরে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। সে কারণে এখনই চার দিনের টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন না সাদারল্যান্ড।

অসি সুনামিতে তছনছ ভারত

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতের ব্যাটিং। এর ফলে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজে সমতা হলো। তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচের মাধ্যমে সিরিজের ফলাফল নির্ধারিত হবে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে মঙ্গলবার গৌহাটিতে খেলতে নামে বিরাট বাহিনী। টসে জিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, প্রমাণ হয় প্রথম ওভারেই। ওপেনিং ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও তিন নম্বরে নামা বিরাট কোহলি ফিরে যান প্রথম ওভারেই। সেই শুরু, এরপর থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। আট রানে রোহিত শর্মা আউট হওয়ার পরেই শূন্য রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন বিরাট কোহলি। মাত্র ২ রানে আউট হন শিখর ধাওয়ান। কেদার যাদব ২৭ রানের ইনিংসে সামান্য প্রতিরোধ তৈরির চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। উলটো দিকে একের পর এক আউট হয়ে ফিরে যান ধোনি, মনীশ পাণ্ডেরা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চারটি উইকেট দখল করেন বেহেরনডরফ। দুটি উইকেট দখল করেন স্পিনার জাম্পা। একসময়ে মনে হতে থাকে, হয়ত একশোর গণ্ডিও মঙ্গলবার পেরিয়ে যেতে পারবে না ভারত। যদিও শেষের দিকে কুলদীপ যাদব ও হার্দিক পাণ্ডিয়া এসে কিছুটা স্কোর এগিয়ে নিয়ে এতে সাহায্য করেন। এই দুজনের ব্যাটে ভর দিয়েই ভারতের স্কোর ২০ ওভারের শেষে এসে পৌঁছয় ১১৮ রানে। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমে লেংথ বলে তুলে নিলেন রোহিত শর্মাকে (৮)।

এক বল পরেই বিরাট কোহলিকে (০)। এক বলের ব্যবধানে পরপর দুই সেরা ব্যাটসম্যানকে হারানোর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারল না ভারত। নিজের পরের ওভারেই বেহেরেনডর্ফ তুলে নেন মনীশ পাণ্ডেকে (৬)। তাঁর বলেই শিখর ধাওয়ানের (২) দুরন্ত ক্যাচ ধরে ভারতের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন অসি অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। বর্ষাপাড়ার উইকেটে কিন্তু কোনো জুজু ছিল না। এমনকি গত বছর হায়দরাবাদ–হিমাচল প্রদেশের রনজি ম্যাচের উইকেটের ধারেকাছেও নয়। বোলাররা উইকেট থেকে সাহায্য পেলেও ব্যাটে ভালো বল আসছিল। তাহলে কেন এমন বিপর্যয় ভারতের? আসলে বিরাট কোহলিরা নিজেদের সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেননি। বেহেরেনডর্ফের আতঙ্কেই কাবু ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। সেই সুযোগ নিয়েই টানা বেহেরেনডর্ফকে টানা ৪ ওভার বোলিং করিয়ে গেলেন ওয়ার্নার। গত মরশুমে চোটের জন্য অধিকাংশ সময়েই মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল বেহেরেনডর্ফকে। শেফিল্ড শিল্ডের কামব্যাক ম্যাচে এক ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিলেন।

একটা সময় মনে হচ্ছিল ধোনি–কেদার যাদবের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবে ভারত, যেটা বেশ কয়েকটা ম্যাচে দেখা গেছে। ধোনিকে (১৩) উইকেট থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন অ্যাডাম জাম্পা। আর কেদার যাদব (২৭) তো জাম্পার গুগলি বুঝতেই পারলেন না। হার্দিক পান্ডিয়া (২৭), কুলদীপ যাদবদের (১৬) প্রয়াস ভারতকে ১১৮ রানে পৌঁছে দিয়েছিল। টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটে এটা ভারতের সর্বনিম্ন রানের তালিকায় যুগ্ম ভাবে পঞ্চম স্থানে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের অভিষেকলগ্নটা কিন্তু ভাল গেল না ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে।

আর সেটা বেহেরেনডর্ফের দুর্দান্ত স্পেলের (৪/২১) জন্যই। রাঁচিতে টোয়েন্টি ২০ অভিষেক ম্যাচে মাত্র ১ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বৃষ্টি না হলে সেদিন কী যে হত, কে জানে।ভারতের মাটিতে জয় পাওয়া বিদেশি দলের কাছে খুব একটা সহজ নয়। সেই কঠিন কাজ সম্পাদন করে সিরিজের প্রাণ বজায় রাখার লক্ষ্য ছিল ডেভিড ওয়ার্নারদের। রাঁচিতে প্রথম ম্যাচে বিপর্যয়ের পর সম্মানরক্ষার জন্য বর্ষাপাড়ার স্টেডিয়ামকেই বেছে নিয়েছিলেন অসিরা। বেহরেনড্রফদের মানসিকতা দেখে অন্তত তেমনই মনে হয়েছিল। তার ওপর উইকেটের সুবিধা তো ছিলই। অসিদের কাজ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল টস জেতা। গত দুদিনের বৃষ্টিতে উইকেটে স্যাঁতসেতে ভাব ছিল। সেটাই দারুণভাবে কাজে লাগালেন বেহেরেনডর্ফ।

সূত্র: নয়া দিগন্ত

Comments

comments