২০৫৭ সালের মধ্য ইউরোপে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে

বর্তমান জনতাত্ত্বিক ধারা অনুযায়ী আগামী ৪০ বছরের মধ্য ফ্রান্স ও পুরাতন ইউরোপের অবশিষ্টাংশে শেতাঙ্গ জনসংখ্যা ক্রমশ কমে যাবে এবং মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। ফরাসি এক গবেষকের গবেষণায় এই দাবি করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক চার্লস গুয়েভ চলতি মাসে ‘ইনস্টিটিউট ডে লিবার্টেসের’ ওয়েবপেজে তার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছেন।

তার ‘ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্ধান’ শিরোনামে লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় জনসংখ্যা সঙ্কুচিত হচ্ছে এবং মুসলিমরা একটি শক্তসমর্থ উর্বরতার হার প্রদর্শন করছে।

‘গ্যাভেখাল রিসার্চের’ প্রেসিডেন্ট গুয়েভ স্বীকার করেন যে তার এই অরাজনৈতিক ‘সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির’ জন্য তাকে অপমানিত ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাম রাজনৈতিকরা সাধারণত সমালোচনা থেকে ইসলামকে রক্ষা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্রমাগতভাবে ইসলামকে সুরক্ষা দিয়েছে এবং সমালোচনা করার জন্য খ্রিস্টানদের উপহাস করেছে।’

এই অর্থনীতিবিদ জনতাত্ত্বিক ধারণা থেকে তার উপসংহার টানেন। তার গবেষণায় বলা হয়, ফ্রান্সের শেতাঙ্গ বা স্থানীয় নারীদের জন্মদানের হার ১.৪। অন্যেদিকে, মুসলিম নারীদের এই সংখ্যা ৩.৪ থেকে ৪ পর্যন্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ফ্রান্সে জাতিগত উৎস নিয়ে আদমশুমারি পরিচালনা করে না। তবে গুয়েভসহ কিছু গবেষক বিশ্বাস করেন যে ইতোমধ্যে ফ্রান্সের জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলমান। ফ্রান্সের বর্তমান জনসংখ্যা ৬৭ মিলিয়ন।

ফ্রান্সে নারীদের অফিসিয়াল জন্মহার ১.৯ শতাংশ। কিন্তু গুয়েভের হিসেব অনুযায়ী স্থানীয় নারীদের এই হার ১.৪ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে, ইউরোপীয় জন্মের হার নারী প্রতি ১.৬ শতাংশ কম।

গুয়েভের জনসংখ্যার হিসেবে বলা হয়, সেখানে শেতাঙ্গ জনসংখ্যা হ্রাস পাবে এবং বর্ধমানভাবে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পারে এবং ২০৫৭ সালের মধ্য ফ্রান্সে মুসলিম জনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে।

গুয়েভের গবেষণায় বলা হয়, ‘প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, আগামী ৪০ বছরের মধ্য অস্ট্রিয়া, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়াম এবং হল্যান্ডের জনসংখ্যার অধিকাংশই মুসলমান হবে।’

এতে বলা হয়, ‘এটা পূর্বাভাস নয়, এটি হচ্ছে গণনা এবং এজন্য আমি নতুন অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

সূত্র: ওয়াশিংটন টাইসম

Comments

comments