প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের পায়তারা করছে সরকার-শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। মেধাবীরা আজ সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে। যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়েরই নামান্তর। যার প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই জাতীয় রাজনীতির গুনগত পরিবর্তন সাধনের জন্য ছাত্র রাজনীতিতে মেধা চর্চার বিকল্প নাই।

তিনি আজ বুধবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে সারাদেশে সদস্যদের ৩ দিনব্যাপী অনলাইনে মেধা যাচাই পরীক্ষার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক জামশেদ আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন। আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক শাহ মোঃ মাহফুজুল হক, দাওয়া সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শিবির সভাপতি বলেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। নিশ্চিতভাবে জেনেও যারা প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। লোক দেখানো ও দায়সারাভাবে গ্রেফতার করেই সরকার তার দায়িত্ব শেষ মনে করছে। অথচ প্রতিবছরই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হয়েছে। এ কারণেই সরকার তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দেশ যেখানে মেধাবীদের হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার কথা সেখানে মেধার পরিবর্তে মেধাহীনরা প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাচ্ছে। এরাই পরবর্তিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসছে। ফলে মেধাহীনদের কবলে চলে যাচ্ছে দেশের স্থান গুলো।

তিনি বলেন, যখন শিক্ষার পদ্ধতি ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক তখনি ছাত্রশিবিরের এ আয়োজন ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি বড় বার্তা। একটি ছাত্র সংগঠনও কিভাবে মেধার চর্চা করতে পারে তার শিক্ষা ছাত্রশিবির থেকে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকেও নেয়ার জন্য আহবান জানান তিনি। অন্যান্য ছাত্র সংগঠন গুলোর অভ্যন্তরিন পরিবেশে মেধার চর্চা বাড়লে ও অনৈতিক কাজ পরিহার করলে সুস্থ রাজনীতির ধারা ফিরে আসবে বলে তিনি মনে করেন। দেশকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা মেধার লালনের পরিবর্তে পেশীশক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিক তখনি ছাত্রশিবির গতানুগতিক ছাত্র রাজনীতির ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধারা উম্মোচনের লক্ষে আগামীদিনের দেশগড়ার কারিগর মেধাবীদের নিয়ে মেধা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করেছে।

তিনি বলেন, আজকে যারা জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা পালন করছেন তারা একসময় ছাত্র রাজনীতিতে দাপটের সাথে ভূমিকা পালন করেছিলেন। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে গুনগত কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছেনা। একই ধারায় একই বৃত্তে রাজনৈতিক দলগুলো আবর্তন করছে। তারা জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। আর এগুলোকে হাতীয়ার বানিয়ে এদেশের রাজনৈতিক ধারাকে সঙ্কুচিত করা হয়েছে, গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে না পারার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে যারা সহবস্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে নিজেদের মধ্যে ভয়ানক কোন্দলে জড়িত ছিল তারাই আজকে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করছে। এই মনোভাব তারা জাতীয় রাজনীতিতেও অব্যহত রেখেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যাপিঠ গুলোতে সরকারের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ বিরোধী মতকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারছেনা। হত্যা নির্যাতন এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকে তারা বিরোধী মতের ছাত্র রাজনীতির নেতা-কর্মীদের পা কেটে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করছেনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলের টবে গাঁজার চাষ করা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা ব্যবসা, ধর্ষণ,খুন, মাদক ব্যবসা ও প্রশ্ন ফাঁসের সাথে ছাত্রলীগ নেতারা জড়িত। আমরা বিশ্বাস করি এসব অপকর্ম থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই জাতীয় রাজনীতির গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটবে।

ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্ররাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যদিও এ পথে বাধার প্রাচীর সৃষ্টি করা হয়েছে তবুও সকল প্রতিকুলতা পেরিয়ে ছাত্রশিবির এগিয়ে যাবে। তিনি অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের প্রতি দেশকে সমৃদ্ধশালী করার লক্ষ্যে ছাত্র সংগঠন গুলোর অভ্যন্তরে মেধার লালন ও চর্চার জন্য আহবান জানান।

Comments

comments