মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে খ্রিস্টানরা নিরাপদ: বিশপ পেরেইরা

জম্মুর সাতরওয়ারি রোডের সেন্ট মেরিস গ্যারিসন চার্চের সবুজ গাছপালা গরমের দিনগুলোতে শীতল পরশ বুলিয়ে দেয়।

চার্চের প্রধান ফটকে নবজাতক শিশুকে নিয়ে এক নারী দাঁড়িয়ে আছেন, বিশপ ইভান পেরেইরার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে প্রহরীকে অনুরোধ করছেন। বিশপের আশীর্বাদ নিতে ম্যাটার্নিটি ক্লিনিক থেকে সরাসরি স্বামী-সন্তানসহ চার্চে ছুটে এসেছেন ওই নারী। বিশপ তাদের হতাশ করেননি, শিশুটিকে আশীর্বাদে ধন্য করেন।

ওই নারীই নয়, বিশপের অফিসে আরো দুই তরুণী অপেক্ষা করছিল। তারা তাদের আইন অধ্যায়ন শেষ করে আজই আইনজীবী হিসেবে যোগ দেবে। তবে তার আগে তারা বিশপের আশীর্বাদ নিতে এসেছে।

বিশপ তাদের আবেদনও শুনলেন। তবে বিদায় দেয়ার আগে তাদের উপদেশ দিলেন: ‘অসহায়দের পাশে দাঁড়াবে, কখনো গরিবদের কাছ থেকে মুখ ফেরাবে না।’

বিশপ পেরেইরা (৫৩) পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত-সংলগ্ন পার্বত্যময় এই অঞ্চলে তার জীবনের অর্ধেকের বেশি কাটিয়েছেন। অবশ্য এখানে নয়, তার জন্ম হয়েছিল মহারাষ্ট্রের বাসাই এলাকায়, ঐতিহ্যবাহী এক ক্যাথলিক পরিবারে। ১৯৯৩ সালে জম্মু-শ্রীনগর ডিসিজে তিনি পাদ্রি হিসেবে সম্মানিত হন।

তারপর ২০১৫ সালে হন বিশপ। তার লক্ষ্য ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ধার্মিকতা বাড়ানো।

তরুণদের প্রয়োজনের ওপর নজর দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন আসবে কেবল শিক্ষার মাধ্যমে।’

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এক কোটি ২৫ লাখ অধিবাসীর রাজ্যটিতে খ্রিস্টানদের সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ২০ হাজারের মতো। স্থানীয় ক্যাথলিকদের প্রায় সবাই অর্থনৈতিক ও শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে থাকা দলিত সম্প্রদায়ের বংশোদ্ভূত।

অবশ্য গত তিন দশক ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য লড়াই চলতে থাকলেও বিশপ পেরেইরা কোনো ধরনের বিপদের মুখে পড়েননি।

তিনি বলেন, বিশপরা টার্গেট নয়। তিনি বলেন, খ্রিস্টান ও মুসলিমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করছে।

পেরেইরা বলেন, চার্চের সামজিক কার্যক্রম সবার জন্যই উন্মুক্ত। তারা প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য চারটি স্কুল পরিচালনা করেন। পাঁচটি হাসপাতালে গরিবদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেয়া হয়। গ্রামের নারীদের ক্ষমতায়নের জন্যও প্রকল্প রয়েছে।

শান্তিপূর্ণ কাশ্মীরের জন্য সংলাপ

বিশপ পেরেইরা মনে করেন, বুলেট বা বোমা নয়, বরং সংলাপের পথ ধরেই কাশ্মীরে শান্তি ফিরে আসতে পারে।

তিন দশক ধরে সহিংসতায় স্বাধীনতাকামী, সেনা সদস্য এবং বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় এক লাখ লোক মারা গেছে। চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত সহিংসতায় মারা গেছে ২৫২ জন।

কিছু লোক মনে করে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের চলে যাওয়ার সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটি পাকিস্তানের অংশে পরিণত হওয়া উচিত ছিল। আবার অনেকে কাশ্মীরকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চায়।

ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তিনটি যুদ্ধও হয়েছে।

বিশপ বলেন, সবার উচিত বসে আলোচনা করা। কয়েক দশকের বৈরিতা ও সহিংসতার পর ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষার সময় এসেছে। তাদের উচিত বৃহত্তর অভিন্ন কল্যাণের জন্য আপস করা।

বিশপ পেরেইরা আরো বলেন, চরমপন্থার দিকে ধাবিত হওয়ার শঙ্কায় থাকা কাশ্মীরি যুবকদের ধারণা বিনিময়ের মাধ্যমে বিকল্প পথ দেখানো উচিত।

সূত্র: আরটিএনএন

Comments

comments