নির্বাচনের আগে সংবিধানে হাত দেয়ার সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

নির্বাচনের আগে সংবিধানে হাত দেয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা মনের মাধুরি মিশিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে।’

বুধবার বেলা ১১টায় সেতু ভবনে ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সহায়ক সরকারের কথা বলছে। এখন শুনি তারা আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেছে। আসলে তারা কখন কী চায়, তা তারা ছাড়া আর কেউ জানে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে হবে না। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে। সেক্ষেত্রে সরকার তাদের সহযোগিতা করবে।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত সরকারের অবস্থান আগের চেয়ে এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তারাও চাইছে মায়ানমার যাতে তাদের ফিরিয়ে নেয়।’

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে নয় আওয়ামী লীগ

এর আগে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে নয়। তবে সেটি হতে হবে আইন অনুযায়ী।

সোমবার রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে গত বৃহস্প‌তিবার দুপুরে রাজধানীর সেতুভব‌নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেনি।

ইসির সঙ্গে সংলাপে আ. লীগের ১১ দফা প্রস্তাব

ইভিএমের ব্যবহার ও ২০১৪ সালের সংসদীয় আসনের সীমানা অক্ষুণ্ণ রাখাসহ নির্বাচন কমিশনকে ১১ দফা প্রস্তাব দেয় আওয়ামী লীগ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রায় দেড়ঘন্টা ধরে চলা এ সংলাপের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় দলটির পক্ষ থেকে ১১টি প্রস্তাব দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা, নির্বাচনের তিন মাস আগে পোলিং এজেন্টদের পরিচয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করা। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে সবোর্চ্চ সচ্ছলতা সর্তকতা অবলম্বন করা।’

তিনি আরো বলেন, কোনো ভাবেই কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তির প্রতি আনুগত্যশীল হিসেবে পরিচিত বা চিহ্নিত ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব প্রদান না করা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দফা প্রস্তাব কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটে ইভিএম চালু করা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাংলায় করার উদ্যোগে আওয়ামী লীগের সমর্থন আছে, নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে সংবিধানে বর্ণিত নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ না করা।

সূত্র: আরটিএনএন

Comments

comments