৯ মাসের আর্থিক প্রতিবেদনের চিত্র : শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ইসলামী ব্যাংকের

দেশের বেসরকারি খাতের বৃহৎ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে চলতি বছরের ৯ মাসে ব্যাংকটির আয় ও শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। ঠিক ৯ মাস আগেই ব্যাংকটির মালিকানায় পরিবর্তন হয়েছিল।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকসহ (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত ৯ মাসের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি। গতকাল রোববার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর—এই ৯ মাসে শুধু ব্যাংকের নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ টাকা ৪৫ পয়সা। সেই হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ৯ মাস শেষে ইপিএস ৬০ পয়সা বা প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ কমে গেছে।

শুধু ব্যাংকিং আয়ের ভিত্তিতে গত জুন শেষে ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা। সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এ তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় যোগ হয়েছে মাত্র ২৫ পয়সা।

সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিক তথা গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে শুধু ব্যাংকিং ব্যবসার আয়ের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫ পয়সা। ২০১৬ সালের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩৩ পয়সা। সেই হিসাবে গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের চেয়ে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ৮ পয়সা কমেছে।

ব্যাংকিং ব্যবসাসহ সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আয়ের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৯ মাসে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৬ পয়সা। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে চলতি বছরের ৯ মাসে সমন্বিত ইপিএস কমেছে ১৫ পয়সা।

আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ৯ মাসে ঋণের বিপরীতে ব্যাংক যথাযথ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশনিং) নিশ্চিত করেছে। তাই ভালো পরিচালন মুনাফা করা সত্ত্বেও আয় কমে গেছে। বছর শেষে এর সুফল পাওয়া যাবে। বছর শেষে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার খুব উন্নতি ঘটবে বলে আমরা আশাবাদী।’

যেকোনো একটি কোম্পানি নির্দিষ্ট একটি সময়ে তার সব ধরনের ব্যয় ও কর পরিশোধ শেষে যে মুনাফা করে, সেটিকে ওই কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হিসাব করা হয়।

এদিকে, ইপিএস কমে যাওয়ায় শেয়ারবাজারে গতকাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল এক দিনেই ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৪০ পয়সায়। ফলে গতকাল দিন শেষে ঢাকার বাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় ছিল ব্যাংকটি।

চলতি বছরের ৯ মাস শেষে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো ১২ টাকা ৩৬ পয়সা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। গত বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো ৩ টাকা ৭০ পয়সা ইতিবাচক ছিল।

শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লোর মাধ্যমে একটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক মানে ওই কোম্পানির কাছে নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে। আর ইতিবাচক মানে হলো ওই কোম্পানির হাতে উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো

Comments

comments