সমুদ্রে শৈবাল চাষ সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল্যবান সম্পদ সামুদ্রিক শৈবাল বা সিউইড এর অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে। আধুনিক পদ্ধতিতে এ চাষ হতে পারে অভাবীদের অর্থউপার্জনকারী ফসল। শৈবাল চাষের মাধ্যমে বছরে অন্তত এক হাজার কোটি টাকা আয় করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবল কোস্টাল মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পে’র আওতায় শৈবালের ওপর কর্মকান্ড থাকবে বলে মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পটি আগামী অর্থ বছর অর্থাৎ ২০১৮- ২০১৯ সালে শুরু হতে পারে।

মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (রিজার্ভ ) ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, বাংলাদেশের উপকুল ভাগে সামুদ্রিক শৈবাল চাষ করা সম্ভব। এখনও এ বিষয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি। বাণিজ্যিকভাবে চাষও শুরু হয়নি। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে কিছু লোক প্রাকৃতিক উৎস অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৈবাল আহরণ করে রোদে শুকিয়ে মিয়ানমারে বাজারজাত এবং পার্বত্য এলাকার মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আমাদের এখানে বাদামী, সবুজ ও লাল রং এর শৈবাল পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাদামী শৈবাল জমিতেও চাষ করা সম্ভব। এফএও এর প্রতিবেদন মোতাবেক বিশ্বে ৭ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে।

সামান্য চাষ এবং ভ্যালু এ্যাড করে বাংলাদেশ বছরে অন্তত ১ শ কোটি টাকা আয় করতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে শৈবাল চাষ পদ্ধতিও একটি নতুন উদ্যোগ এবং চাষ পদ্ধতিও খুব সহজ। গবেষণা দ্বারা প্রমানিত, দেশের উপকূলীয় জলরাশিতে ব্যাপকভাবে শৈবাল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে চাষের কাঠামো প্রতিষ্ঠাকরণে চাষীদের স্বল্প বিনিয়োগ প্রয়োজন। গৃহস্থালি উপকরণ, দড়ি, বাঁশ, জাল, প্লাষ্টিক বয়া ইত্যাদি ব্যবহার করে চাষীরা সহজেই এই চাষ শুরু করতে পারে।

এ বিষয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিসের লিয়াজো অফিসার আশরাফুল আলম কুতুবী বলেন, শৈবালের উৎপাদন এবং রপ্তানীর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে রয়েছে ৭২০ কিলোমিটার উপকুলীয় এলাকা। বিশ্বব্যাপী শৈবাল থেকে খাদ্যপণ্য, ঔষধি পণ্য, প্রসাধনী পণ্য, সার, বায়ো ফুয়েল ও পরিবেশ দূষণরোধক উৎপাদন হচ্ছে। শৈবাল থেকে নুডুলস জাতীয় খাবার, স্যুপ জাতীয় খাবার, সবজি, শরবত তৈরী ছাড়াও এগার এগার, কেরাজিনান, এলগ্যানিক এসিড, মূল্যবান ক্যালসিয়াম দ্রব্য উৎপাদন হয়। ওষুধ হিসেবে ডায়াবেটিসের ওষুধ, খাদ্য সংরক্ষণ, ল্যাবরেটরিতে ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি উৎপাদনের জন্যও ব্যবহার হয় শৈবাল।

কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমাদের ৩ হাজার ৭শ মাইল উপকূলীয় এলাকা সামুদ্রিক শৈবাল চাষের জন্য উপযোগী। সেন্টমার্টিনে পরীক্ষামূলকভাবে ২০১০ সালে দুই প্রজাতির শৈবাল চাষের মাধ্যমে দেশে প্রথম এর চাষ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সরকারী উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ প্রকল্প খুব একটা সফল হয়নি। সেন্টমার্টিনেই প্রায় ১৪০ ধরনের শৈবাল জন্মায়। তাছাড়া জেলা উপকুলীয় প্যারাবন এলাকাতেও ১০ প্রকারের শৈবাল দেখা যায়।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় মেলায় কোস্ট ট্রাস্টের শুকনা শৈবাল রাখা হবে।
শৈবাল চাষ করলে ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের একটি অংশে সহজে স্থান করে নিতে পারে বলে জানালেন ব্যক্তি উদ্যোক্তা ফ্যালকন ইন্ডাস্ট্রিজ এর ওমর হাসান। তিনি জানান, ২ লাখ মেট্রিক টন শুকনো শৈবাল রপ্তানী করতে পারলের্ প্তানী আয় দাঁড়াবে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওমর হাসান শৈবাল নিয়ে ৮ বছর গবেষণা ও চাষ করে ২০১৫ সালে এক মেট্রিক টন রপ্তানীর মাধ্যমে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেন।

সূত্র: আমাদের অর্থনীতি

Comments

comments