রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মার্কিন সিনেটের শুনানিতে বাংলাদেশের প্রশংসা

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মার্কিন সিনেটের শুনানিতে বাংলাদেশের প্রশংসা

মার্কিন সিনেটে বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কংগ্রেস কমিটির এক শুনানিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করা হয়েছে। ‘বার্মা নিয়ে মার্কিন নীতির মূল্যায়ন: ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকার অবস্থা’ শীর্ষক ওই শুনানিতে এই প্রশংসা করা হয়। মঙ্গলবার ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপমন্ত্রী মার্ক সি স্টোরেলা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একত্রে কাজ করে ‘অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ’ করেছে বাংলাদেশ।

পরে শুনানি শেষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণপূর্ব এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি প্যাট্রিক মার্ফি এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নুয়ের্ট বলেন, মিয়ানমারে ভেতরে এবং বাইরে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সাহায্যার্থে ২০১৭ সালে ১০৪ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।

প্যাট্রিক মার্ফি বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে বেরিয়ে বার্মা একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এরই মধ্যে আগে থেকে বিদ্যমান সমস্যার সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে রাখাইনের ভয়াবহ সংকট। যা প্রায় দেড় বছর আগে ক্ষমতায় আসা বেসামরিক সরকারের জন্য পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে। সেখানে সহিংসতা বন্ধ, বাস্তুচ্যুতদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিস্থিতি উন্নয়নে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা রাখাইনে নির্মমতার ব্যাপারে তাদের জবাবদিহিতা চাই।

আর মিয়ানমারে এই সহিংসতা বন্ধে আমরা ইতোমধ্যেই দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। তবে রাখাইনে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী কারণগুলোও খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, কফি আনান কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে বার্মার সিদ্ধান্তকে আমরা সমর্থন করি।

তিনি আরো বলেন, বার্মার সার্বিক সফলতা দেশটির জনগণের, ওই অঞ্চলের এবং সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দেশটির বেসামরিক সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব। দেশটিতে সেনা পরবর্তী যুগে বর্তমান সংকটসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র তার সমর্থন বজায় থাকবে।

রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার কথার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে যথাযথ শব্দ ব্যবহারে পিছ পা হচ্ছি না। তবে আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হবে আর এরপরই কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই আমরা জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টের ওপর নির্ভর করব।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর এই সহিংসতাকে অনেকই জাতিগত নিধন হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এগুলো নৃশংস মনে হচ্ছে।

প্যাট্রিক মার্ফি বলেন, এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে সেখানে নৃশংসতা ঘটছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বার্মার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মিলে কাজ করবে।

তবে এদিকে মিয়ানমারে যা ঘটছে সেগুলোকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’এবং ‘গণহত্যা’হিসেবে বর্ণনা করা হবে কীনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়গুলোকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা যায়। তবে এ ধরনের টার্ম ব্যবহার করার আগে আইনি বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গেলো ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পর থেকে সৃষ্ট মানবিক সংকটের কারণে বার্মা আমাদের নজর কেড়েছে। এর আগেও দেশটিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছিল তবে বর্তমান সংকটের ব্যাপকতা অনেক।

তথ্যসূত্র: আরটিভি অনলাইন

Comments

comments