মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকাসহ ৭ ডিবি পুলিশকে আটক করেছে সেনাবাহিনী

টেকনাফে এক ব্যবসায়ী জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে ফেরার সময় সেনাবাহিনীর হাতে গোয়েন্দা পুলিশের সাতজন সদস্য আটক হয়েছেন।

বুধবার ভোরে ডিবির ওই সাত সদস্যকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের সাবরাং ত্রাণকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মেজর নাজিম আহমেদ।

অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম আবদুল গফুর। তিনি কম্বলের ব্যবসা করেন।

অভিযোগ ওঠে, মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজার হোটেল আল গণির সামনে থেকে টেকনাফ পৌর সভা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে এই ব্যবসয়ীকে একটি নির্দিষ্ট রুমে রেখে মুক্তিপণের টাকা লেনদেন করেন ডিবির এই দলটি।

অপহৃত আব্দুল গফুর জানান, তারা আমার কাছ থেকে ১ কোটি টাকা দাবী করেন। অন্যথায় ক্রসফায়ারে দেয়া হবে বলে জানান। সবশেষ ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণে ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরকে মাইক্রোবাসযোগে টেকনাফের মহেশখালীপাড়া নেয়া হয়। ১৭ লাখ টাকা নগদ নিয়ে মেরিন ড্রাইভে অপহৃত আবদুল গফুরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মেজর নাজিম আহমেদ বলেন, মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি তাদের জানালে তল্লাশি চৌকিতে ডিবির ব্যবহৃত গাড়িটি সংকেত দিয়ে থামানো হয়। গাড়ি থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ভোরে তাদের সাবরাং সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।

মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকাসহ ৭ ডিবি পুলিশ

তিনি আরো বলেন, জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেনাবাহিনী ক্যাম্পে এসে আলোচনার মাধ্যমে আটকদের পুলিশের কর্মকর্তাদের হাতে সোপর্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সেসময় জানান তারা।

আবদুল গফুরের বড় ভাই টেকনাফ পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার ভাইকে কক্সবাজার থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল অপহরণ করেছে। তাকে আটক করে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেয়ার জন্য রাজিও হই। তবে টাকা দেয়ার বিষয়টি টেকনাফ সেনাবাহিনীকে অবহিত করেছি। পরে ভোরে চারটার দিকে সেনাবাহিনীর লম্বরী ক্যাম্পের কিছু দূরে ১৭ লাখ টাকা দেয়ার পর আমার ভাইকে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশের দল।

তথ্যসূত্র: আরটিভি অনলাইন

Comments

comments